ঢাকা, ২৪ মে ২০২৬: ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী হামে শিশু মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে উঠে এসেছে। মাত্র ৭০ দিনের মধ্যে হাম সংক্রমণে ৫০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক ভয়াবহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুসারে, মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হামের ক্ষেত্রে ৬২,০০০-এর বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা শতাধিক। মোট মৃত্যু (সন্দেহভাজনসহ) ৫১২-এ পৌঁছেছে, যার অধিকাংশই ৫ বছরের নিচের শিশু। যদিও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারনা আসল মৃত্যুর সংখ্যা ১৩৫০ থেকে ৩৫০০ জনের মাঝামাঝি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা করোনা মহামারির প্রথম দিকের তুলনায়ও উদ্বেগজনক। বিশ্বব্যাপী করোনা অতিমারীর সময় বাংলাদেশে প্রথম ৭০ দিনে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ ছাড়ায়নি। অথচ হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত অল্প সময়ে এত বেশি শিশু প্রাণ হারানো দেশের টিকাদান কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামোর দুর্বলতা তুলে ধরেছে।
হাম মূলত অপুষ্টি, টিকার অভাব এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত ছড়ায়। এবারের প্রাদুর্ভাবে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগে হাসপাতালগুলোতে শিশু ওয়ার্ডগুলো উপচে পড়ছে। অনেক শিশু জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে।
সরকার ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে মিজলস-রুবেলা টিকাদান অভিযান শুরু করেছে এবং ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সহায়তা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, টিকাদানের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টি কর্মসূচি জোরদার এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন ছাড়া এ ধরনের প্রাদুর্ভাব বারবার ফিরে আসতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, শিশুদের সময়মতো টিকা দিতে এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকিকে ‘উচ্চ’ বলে মূল্যায়ন করেছে। এই প্রাদুর্ভাব শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, আঞ্চলিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
