বিশেষ প্রতিবেদন
লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাদিক কায়েমকে ঘেরাও, দৌঁড়ান দেয়ার ঘটনা ঘিরে নানা আলোচনা ও সমালোচনা ডানপালা মেলছে। এই দৌঁড়ান ও ঘেরাও অভিযানে অক্সফের্ডে ছিল একাত্তর সমর্থক গোষ্ঠী এবং পরবর্তীতে লন্ডনের ঘটনাবলিতে খোদ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ,ছাত্রলীগসহ অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িয়ে পড়ে।
ব্রিকলেন নিউজ পোর্টালের বিবরণে উল্লেখ করা-‘যুক্তরাজ্যে সফররত বাংলাদেশের ২৪-এর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ,এনসিপি দক্ষিণ অঞ্চলের মুখপাত্র ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সভা ঘিরে ১৪,১৫ জুন পূর্ব লন্ডন ছিলো উত্তপ্ত। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঠেকাতে সেখানে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়ন করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষে ডিম ও পানির বোতল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটকের ঘটনাও ঘটেছে।
আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রচন্ড বিক্ষোভের মুখে পূর্ব লন্ডনের একটি হলে আয়োজিত সভা শান্তিপূর্ণ হয়নি। সভা শেষে দীর্ঘ সময় সভাস্থলে হাসনাতরা অবরুদ্ধ ছিলেন বলে দাবী করেছেন বিক্ষোভকারীরা। এর আগে পুলিশ প্রহরায় সভাস্থলের পিছনের দরজা দিয়ে সভায় প্রবেশ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। সভা শেষে প্রাইভেট নিরাপত্তা রক্ষী ও ব্রিটেন পুলিশের সহায়তায় পিছনের দরজা দিয়ে একটি কালো গাড়িতে দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়।
একই দিনে বিকালে লন্ডনের এল্ম পার্ক এলাকায় তার উপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনাও
এদিকে, টেরোরিস্ট আখ্যা দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহকে ডিম থেরাপি দিলেন আমাদের সাবেক সিলেট ছাত্রলীগ নেতা বর্তমান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীম আহমেদ। তাঁর অবস্থান ও নেতৃত্বে এলম পার্কের সভাস্থলে প্রতিহতের অভিযান চলে। এতে সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

এদিকে ইয়াসমীন সুলতানা পলিন অক্সফোর্ড অভিযান সম্পর্কে ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন- মিশন বাদাম কর্মসূচি শেষে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে লন্ডনে ফিরছি। যারা সময়, শ্রম, অর্থ, সাহস এবং ভালোবাসা দিয়ে আমাদের সঙ্গে অক্সফোর্ডে উপস্থিত ছিলেন, প্রত্যেককে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনারা দেখিয়েছেন, প্রতিবাদ মানেই বিশৃঙ্খলা নয়; প্রতিবাদ হতে পারে শৃঙ্খলিত, রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং নৈতিক অবস্থানের স্পষ্ট ঘোষণা। দেখা হবে আবারও কোথাও, কোনো অন্যায় বয়ানের বিরুদ্ধে, কোনো নতুন মিশন বাদামে।
তিনি লিখেছেন-‘আজকের অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রথমত, Oxford Union Society অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ইউনিয়ন বা ছাত্র সংসদ নয়। এটি একটি স্বাধীন ডিবেটিং সোসাইটি। তাই আজকের অনুষ্ঠানকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। বাস্তবে আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, পোস্টডক্টরাল ফেলো, কর্মী এবং স্থানীয় কমিউনিটির বড় অংশ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।

দ্বিতীয়ত, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের নিয়মিত মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান হলে সাধারণত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট বা দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ও পরিচালনা দেখা যায়। কিন্তু আজকের অনুষ্ঠানে সেই ধরনের দৃশ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি দেখা যায়নি। এমনকি অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির নিয়মিত ইভেন্ট আপডেট বা সদস্যদের উদ্দেশে প্রচারিত তালিকাতেও এই অনুষ্ঠানকে সেভাবে সামনে আনা হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে এটি যতটা না একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিতর্ক, তার চেয়ে বেশি মনে হয়েছে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একপাক্ষিক আয়োজন, যেখানে নিজেরাই আয়োজক, নিজেরাই অতিথি, নিজেরাই বক্তা, নিজেরাই দর্শক।
আমাদের আপত্তি এখানেই। বাংলাদেশ নিয়ে কথা হবে, কিন্তু বাংলাদেশের ভুক্তভোগীদের কথা থাকবে না; গণতন্ত্র নিয়ে কথা হবে, কিন্তু ভিন্নমত দমনের প্রশ্ন থাকবে না; ফ্রিডম অব স্পিচ নিয়ে কথা হবে, কিন্তু সমালোচকদের প্রবেশ ও প্রশ্ন করার সুযোগ সীমিত থাকবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। হাসনাত ও সাদেক কায়েমদের মতো বিতর্কিত রাজনৈতিক চরিত্রদের অক্সফোর্ডের নাম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হলে আমরা প্রশ্ন করবোই।
আজকের সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, প্রতিবাদের ভয়ে অনুষ্ঠান ঘিরে অস্বস্তি ছিল স্পষ্ট। লন্ডন থেকে যাওয়া বাংলাদেশি ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিকদের অনেককেই স্পট রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এসেছে। যারা সত্যিই ফ্রিডম অব স্পিচে বিশ্বাস করে, তারা প্রশ্নকে ভয় পায় না। তারা পাল্টা বক্তব্যকে ভয় পায় না। তারা সমালোচনাকে দরজার বাইরে আটকে রাখে না।
মিশন বাদামের বার্তা খুব পরিষ্কার: অক্সফোর্ড ইউনিয়ন বিতর্কের মঞ্চ হতে পারে, কিন্তু একপাক্ষিক রাজনৈতিক প্রচারণার মঞ্চ হতে পারে না। সহিংসতা, রাজনৈতিক দমন, দল নিষিদ্ধের রাজনীতি, গণমাধ্যমের ওপর চাপ, সমালোচকের বিরুদ্ধে মামলা এবং ভিন্নমতকে শত্রু বানানোর রাজনীতিকে “গণতন্ত্র” নামে চালানো যাবে না।
আমরা কাউকে আক্রমণ করতে যাইনি। আমরা গিয়েছি প্রশ্ন করতে। আমরা গিয়েছি বলতে, “Invite debate, not propaganda.” আমরা গিয়েছি মনে করিয়ে দিতে, hypocrisy is not democracy.
সবাইকে আবারও ধন্যবাদ। আজকের মিশন শেষ, কিন্তু প্রশ্ন শেষ নয়। অন্যায় বয়ান যেখানে যাবে, মিশন বাদাম সেখানেই তার বাদাম তুলে দেবে’
