ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন থেকে লুট হওয়া ৯০টি আইটেম উদ্ধারের খবর নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক Omi Rahman Pial ভাইয়ের পোস্ট থেকে জানা গেল, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৫ আগস্টের সেই গুলিবিদ্ধ পাঞ্জাবি ও বঙ্গবন্ধুর হাতে থাকা চশমাও। সব মিলিয়ে ৯০টি আইটেম উদ্ধার হয়েছে।
পিয়াল ভাইসহ এই উদ্ধার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে জঙ্গি ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর আস্ফালন, অস্থিরতা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং লুটপাটের মধ্যেও বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ কোনো না কোনোভাবে এগুলো সংরক্ষিত ছিল। কেউ হয়তো বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকে এগুলো রক্ষা করেছেন, আবার কেউ অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নিজের কাছে রেখেছিলেন। উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত জাতির ইতিহাসের এই অমূল্য সম্পদগুলো ফিরে আসাটাই সবচেয়ে বড় কথা। বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু স্মৃতিচিহৃ আরও অনেকের কাছে সযত্নে আছে, এক সময় আবারও সেগুলো ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনে স্থান পাবে।
ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। সাময়িকভাবে বিকৃত করা যায়, আড়াল করা যায়, কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সত্যের কাছেই ফিরে আসে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো স্থাপনা, ছবি বা স্মারকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন; তিনি বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসে, বাঙালির আত্মপরিচয়ে এবং কোটি মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছেন।
যারা ইতিহাস নির্মাণ করেন, তারা যুগের পর যুগ বেঁচে থাকেন। আর যারা ইতিহাস মুছে ফেলতে চান, তারা সময়ের স্রোতে হারিয়ে যান।
ধানমন্ডি ৩২ থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী:
১. গুরুত্বপূর্ণ ছবি – ১১টি
২. পারিবারিক অ্যালবাম – ২টি (মোট ৫২টি ছবি)
৩. চিঠি – ৮টি
৪. গুলি – ৩টি
৫. শেখ জামালের হেলমেট – ১টি
৬. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মাথার পাশে থাকা টেলিফোন – ২টি (লাল ও সবুজ)
৭. শেখ জামালের গ্যাস মাস্ক – ১টি
৮. শেখ কামালের শার্ট – ১টি
৯. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের গুলিবিদ্ধ পাঞ্জাবি – ১টি
১০. শেখ জামালের বিয়ের ঢাকাই জামদানি শাড়ি – ১টি
১১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের চশমা – ১টি
১২. শেখ কামালের গানের ভিনাইল রেকর্ড – ৮টি
মোট উদ্ধারকৃত আইটেম: ৯০টি
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
