লুসিড্রিম
“জুলাই-আগস্ট ২৪, গণঅভ্যুত্থান নয়: গণপ্রতারণা।” আজ জুলাইয়ের নৃশংস প্রতারণার চেহারা মানুষের কাছে অনেকটাই উন্মোচিত। কোটা বনাম মেধার নামে ধোঁকা দিয়ে, তীব্র বেকারত্বকে পুঁজি করে এবং “মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই” স্লোগানের আড়ালে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তরুণদের সমবেত করা হয়েছিল। ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ‘রেজিম চেঞ্জে’র মেটিকুলাস ডিজাইনে তাদের প্রয়োজন ছিল “লাশ”।
এক বিদেশী শক্তি তাদের গুপ্তচর সংস্থা ও প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারদের শুধু গুজব ছড়ানোর জন্যই দিয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। বিক্ষোভে গতি আনতে, সহিংসতা তৈরি করতে এবং জ্বালাও-পোড়াও করে ক্ষমতা দখল করতে তাদের লাশের প্রয়োজন ছিল।
সেই সব উন্মোচিত তথ্যের কিছু বিষয় নিয়ে ৭ দিনের সিরিজ…
* ইউনূস বলছেন: সংখ্যাটা নাকি ১৫০০!
* ইউএন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি: আরও ১০০ কমিয়ে জুলাইয়ের শহীদের সংখ্যা নির্ধারণ করেছে ১৪০০ (এবং তা ১৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত)।
* বাংলাদেশ সরকারের গেজেট অনুযায়ী: সেই সংখ্যা আরও প্রায় ৬০০ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৪৪ জনে!
* প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী: মৃতের সংখ্যা আরও ৩০০ জন কমে ৫৪২ জন। (এর মধ্যে ১৬ জুলাই থেকে ৩ আগস্টের মধ্যে ২১৬ জন এবং ৪ থেকে ৬ আগস্টের মধ্যে বাকি ৩২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে)।
*গাণিতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:
শেখ হাসিনা ৬ আগস্ট ভারতে ছিলেন। তাহলে ৬ আগস্টের ১০৭ জন বাদ দিলে (৫৪২ – ১০৭) থাকে ৪৩৫ জন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে বাংলাদেশ ছেড়েছেন। ৫ আগস্ট বাংলাদেশের অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী তাদের এলাকা ছেড়েছেন। তাহলে ৫ আগস্ট নিহত ১০৮ জন বাদ দিলে সংখ্যাটি দাঁড়ায় (৪৩৫ – ১০৮) = ৩২৭ জন।
এই ৩২৭ জনের মধ্যে সরকারের গেজেট অনুযায়ী ৪৪ জন হচ্ছেন নিহত পুলিশ কর্মকর্তা। অর্থাৎ, (৩২৭ – ৪৪) = ২৮৩ জন হচ্ছেন ৩৬ দিনের আন্দোলনে নিহতদের আনুমানিক একটি প্রকৃত সংখ্যা।
প্রথম আলোর ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত অনুসন্ধানী রিপোর্ট বলছে, এই নিহতদের মধ্যে ৮৭ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছিলেন। তাহলে (২৮৩ – ৮৭) = ১৯৬ জন।
এই ১৯৬ জনের মধ্যে কতজন শিশু ছিল? প্রথম আলোসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সঠিক অনুসন্ধানী রিপোর্টে পরিষ্কার বলা হয়েছে, “জুলাই আন্দোলনে নিহতদের মধ্যে ১৩৩ জন শিশু।” তাহলে (১৯৬ – ১৩৩) = মাত্র ৬৩ জন বাকি থাকে।
*তাহলে বাকি সংখ্যাগুলোর রহস্য কী?
আবার ফিরে যাই বাংলাদেশ সরকারের গেজেটে, যেখানে সংখ্যাটি ৮৪৪ জন! সরকারি গেজেটের এই ৮৪৪ জনের কবর আদৌ বাংলাদেশে আছে? এই ৮৪৪ জনের পরিবার কোথায়? ইতিমধ্যে ৮ জনকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, ফলে সংখ্যাটি এখন ৮৩৬।
এখানে অনেক ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যেমন— ৫ আগস্ট যশোর শহরের হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালে আগুন দিয়ে ২৪ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এই অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের নামও শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে! সসরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৮৩৬ জনের মধ্যে অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু জমিজমা-সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ, দুর্ঘটনা এবং আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—এমন অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
জুলাইয়ের ৮৪৪ জনের সরকারি গেজেটে ১০ জন নারীর মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
লক্ষ করার বিষয় হলো, নিহত এই নারীদের কেউই আন্দোলনস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে রাজপথে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো নারী নিহত হওয়ার তথ্য নেই। বরং নিহত ১০ জন নারীর অধিকাংশই নিজ নিজ বাসায় অবস্থানকালে প্রাণ হারিয়েছেন।
একইভাবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থী বা আন্দোলনকারী নিহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া যায় না।
যদি দাবি করা হয় যে পুলিশ, র্যাব বা সেনাবাহিনী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা করেছে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা করা যায় যে মিছিলের সামনের সারিতে থাকা নারী আন্দোলনকারী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্রের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই সর্বপ্রথম উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটত।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠে—বাস্তব চিত্রটি কেন ভিন্ন দেখা যাচ্ছে?
একইভাবে, জুলাইয়ে ১৩৩ জন শিশু নিহত হয়েছে। শিশুদের জুলাই আন্দোলন বোঝার সামর্থ্য নেই। এদের কারা হত্যা করলো? জুলাইয়ে ১৬৮ জন এমন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যারা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিলেন না। ৪৪ জন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারা এই পুলিশদের হত্যা করলো?
রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে জুলাই হত্যাকাণ্ডে নিহত ১১৪ জন শহীদের লাশ দাফনের তথ্য দেওয়া হয়েছে জুলাই ফাউন্ডেশন ও সরকারি গেজেট থেকে। আজ পর্যন্ত মাত্র ৯ জনের লাশ শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের পরিবার লাশ নিয়ে গেছে। বাকি ১০৫টি লাশের খোঁজে কেউ আসেনি। এই ১০৫ জনের কি মা, বাবা, ভাই, বোন কেউ বেঁচে নেই?
বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারা অনুযায়ী, ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট জমা দিতে হয়। আজ দুই বছরেরও অধিক সময় হয়ে গেলেও জুলাইয়ের তথাকথিত শহীদদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ছদ্মবেশী প্রতারণা হচ্ছে এই জুলাই আন্দোলন। শেখ হাসিনাকে খুনি ও ফ্যাসিস্টের তকমা লাগিয়ে আন্দোলনে গতি ও সহিংসতা বাড়িয়ে এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা অবৈধ ক্ষমতা পরিবর্তনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মবের হাতে কত মানুষ খুন হলো? জেলখানায় কত মৃত্যু হলো? হাজারো বৃদ্ধ, গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক কর্মী মিথ্যা হত্যা মামলায় বিনা বিচারে কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। মব নৃশংসতায় দেশের আইনশৃঙ্খলা, মানুষের নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতা আজ শূন্যের কোঠায়। নিজেরা ভাগ-বাটোয়ারার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার মিশনে নেমেছে তারা। এত বড় ফ্যাসিবাদ ও ভয়ংকর প্রতিহিংসাপরায়ণ অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী দল বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসেনি।
……………………………………………….
আপনার কি মনে হয় না ৫ আগস্টের পর যারা ক্ষমতা দখল করেছে, তারা আসলে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের স্বাধীনতা বিরোধী? তারা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতি ধ্বংস করতে চেয়েছে, দেশের উন্নয়ন থামিয়ে দিয়েছে এবং দেশকে অরাজক ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছে। দেশকে তুলে দিয়েছে সাম্রাজ্যবাদের হাতে।
আপনার কি এখন মনে হয় না যে শেখ হাসিনা এদের ওপর অনেক ক্ষমাশীল ছিলেন এবং অনেক উদার আচরণ করেছিলেন— যা তাদের প্রাপ্য ছিল না?
বাংলাদেশের মানুষকে আজ নিজের অধিকার ও সুরক্ষার জন্য পথে নামতে হবে। দেশকে এই ভয়ংকর পরিণতি থেকে বাঁচাতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
……………………………………………………..
মানুষ আজ সত্যটি জানে—
শেখ হাসিনা খুনি নন, শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট নন।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্থপতি।
