গোপালগঞ্জ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
১৬ই জুলাই এক অত্যন্ত বেদনাবিধুর, নৃশংস ও কলঙ্কিত দিন। ২০২৫ সালের এইদিনে গোপালগঞ্জের মাটিতে অবৈধ ইউনূস সরকারের নির্দেশে দুজন উপদেস্টার সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর যে বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা আধুনিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।
ইতিহাসের পাতায় যুক্ত আরো একটি কালো দিন। যা পাকিস্তানি হানাদার বা রাজাকারদের হাতে নয়, কালো অধ্যায় রচিত হয়েছে এদেশের কিছু রাষ্ট্রবিরোধী মানুষের হাতে।
চরম প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মর্যাদা রক্ষায় গোপালগঞ্জের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধে নেমেছিলেন। সেদিন দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় সেনাসদস্যদের গুলিতে যারা নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, তাঁরা আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শহিদ।
আজকের এই শোকাবহ দিনে আমি সেই সকল বীর শহিদকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একই সাথে, এই বর্বরোচিত হামলায় যারা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে চরম নির্যাতন ভোগ করছেন, তাঁদের সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।
সেদিন গোপালগঞ্জে গণহত্যা চালিয়েই অবৈধ সরকার ক্ষান্ত হয়নি, তারা ১২ হাজার নিরীহ মানুষকে আসামী করে মামলা দিয়েছে, অর্ধশতাধিক শিশুকে গ্রেপ্তার করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কালো অধ্যায় রচনা করেছে।
আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই বাংলার মানুষের সাথে এই অবিচারের সব জবাব দেওয়া হবে। বুলেটের আঘাতে সাময়িকভাবে আমাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হলেও, এ অঞ্চলের বীরজনতা তথা বাংলাদেশের আপামর মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে কখনও দমিয়ে রাখা যাবে না।
ইনশাল্লাহ, বাংলার পবিত্র মাটিতে গোপালগঞ্জ গণহত্যাসহ বিগত ২ বছরের সকল খুনেরও সুষ্ঠু বিচার আমরা নিশ্চিত করবো।
আসুন, সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা শোককে শক্তিতে রূপান্তর করি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার শপথ নিই।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। আঁধার কেটে ভোর হোক, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
