১ অগাস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে মৌলবাদবিরোধী কবি ও লেখকদের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তসলিমার।
দীর্ঘ ২০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় পা রাখছেন ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন, যিনি বর্তমানে দিল্লিতে বসবাস করেন।
মঙ্গলবার ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, আগামী ১ অগাস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে মৌলবাদবিরোধী কবি ও লেখকদের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তসলিমার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তসলিমা নিজেই এই তথ্য দিয়েছেন।
তাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ করেছে ‘সেক্যুলার মিশন’এবং ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটার্স ফাউন্ডেশন’ (এইচআরবিএফএফ) নামে দুটি সংগঠন।
আয়োজকরা বলছেন, মৌলবাদের বিরুদ্ধে তসলিমার দীর্ঘদিনের ‘আপসহীন’ অবস্থান এবং বাকস্বাধীনতার পক্ষে লড়াইয়ের স্বীকৃতিতে তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হয়েছে।
১৯৬২ সালে ময়মনসিংহে জন্ম নেওয়া তসলিমা আশির দশকে উদীয়মান কবি হিসেবে বাংলাদেশের সাহিত্যজগতে ‘আলোড়ন’ তুলেছিলেন। কিন্তু লিঙ্গসমতার পক্ষে এবং ধর্মবাদের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে তাকে ইসলামপন্থিদের রোষানলে পড়তে হয়।
হত্যার হুমকি পেতে থাকায় ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন তসলিমা। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে এক দশকের বেশি সময় বসবাস করার পর ২০০৪ সালে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন।
তসলিমা কি বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন? সাংবাদিক আনিস আলমগীরের প্রশ্ন
দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর তসলিমা নাসরিন আজ আবার কলকাতায় পা রাখলেন। ২০০৭ সালে তৎকালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বামফ্রন্ট সরকারের আমলে নিরাপত্তার অজুহাতে তাকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মমতা ব্যানার্জির জমানাতেও তার জন্য এই শহরের দরজা আর খোলে নাই।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে ও দেওয়া পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাসেই আজ তিনি দিল্লি থেকে উড়ে এসে কলকাতায় নামার সাহস পেলেন। আশা করি, সেখানে তার এবারের সফর নির্বিঘ্ন হবে এবং বিজেপি সরকার তাকে যথাযথ নিরাপত্তা দেবে।
তবে আসল কথা হচ্ছে- তসলিমা নাসরিন নিজ দেশ বাংলাদেশে আসবেন কবে? ১৯৯৪ সালে জন্মভূমি বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর থেকে তিনি একাধিকবার দেশে ফেরার আকুলতা প্রকাশ করেছেন। আদৌ কি কোনোদিন ফিরতে পারবেন? আর এখন যদি তাকে দেশে আসার আহ্বান জানানো হয়, তবে কি তিনি সত্যিই আসবেন?
