মনজুরে খোদা তারিক
কাবেরী গায়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক। ড. কাবেরীর সাথে আমার সম্পর্ক যুগযুগের। তিনি বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের একজন অন্যতম কর্মী-সংগঠক ও শিক্ষক। যে কোন ধরণের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অনাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠা এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ও সত্ত্বা।
এই কাবেরী গায়েনের বিরুদ্ধে কেন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে? তাঁর অপরাধ কি?
ফেসবুকে ঘুরে বেড়ানো একটি পোস্টারের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন করাই কি তাঁর অপরাধ? সেই জন্যই কি শিবিরের তিন কর্মীর অভিযোগে কমিটি করা হয়েছে। অথচ প্রতিদিন কত বিশাল অপরাধ, অন্যায়ই না ঘটছে! সেটা নিয়ে এই কথিত শিক্ষকদের কোন বাদ-প্রতিবাদ নেই?
কত ভাবেই না জুলাই নিয়ে মিথ্যাচার ও প্রতারণা চলেছে। ভুয়া শহীদ, ভুয়া মামলা, ভুয়া আহত, ভুয়া জুলাইযোদ্ধা, ভূয়া ভাতা, চিকিৎসার নামে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ইত্যাদি কত কিছুই না দেখছি। তথ্য-প্রমাণসহ পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। কই কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে তো প্রতিবাদ করতে দেখছি না?
তাহলে কারেবী গায়েনের অপরাধ কি? তিনি বাম? কমিউনিষ্ট? হিন্দু-সংখ্যালঘু? তাঁর অপরাধ কি তিনি প্রতিবাদী? আপোষহীন? ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা? চাটাচাটি না করা?
তিনি কি আওয়ামী লীগ করেন? না। সেটা করাও যদিও কোন অপরাধ নয়। তবে তিনি একজন সাচ্চা বাম-কমিউনিস্ট। বলতে পারেন শেখ হাসিনার শাসনামলে হওয়া কোন অন্যায়-অবিচার-অনাচারের প্রতিবাদ তিনি করেননি?
তাহলে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার-পক্ষের মানুষ সেটাই কি তার অপরাধ? কাবেরী পড়ান, শেখান সাংবাদিকতা কিন্তু ডক্টরেট করেছেন মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদান নিয়ে। সেটাই কি তার ডিসকোয়ালিফিকেশন? কেননা হাওয়া এখন উল্টো দিকে?
মুক্তিযুদ্ধকে যারা ধারণ করবে, তারাই কি পরিণত হবে তাদের টার্গেটে? তাদের লক্ষ্য কি বিশ্ববিদ্যালয়কে মেধা ও মুক্তচিন্তা শূণ্য করে, নিজেদের প্রভাব বলয় বাড়িয়ে একে মাদ্রাসায় পরিণত করা..?
একজন শিক্ষকের এমন হয়রানি, অনেককে অব্যাহতি, অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত, তালিকা করণ এগুলো কিসের আলামত? কাদের স্বার্থের অংশ? কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোথায়? কোথায় শিক্ষক নেটওয়ার্ক? কোথায় শিক্ষক সমিতি? শুনেছি কাক কখনো কাকের মাংসো খায় না? কিন্তু সময় কি পাল্টে গেল? এখন কি সেই তত্ত্ব অচল? এখন কি তাহলে স্বার্থ-সুবিধা-ক্ষমতাই শেষ কথা? সেখানে স্বজাত বলে কিছুই নেই?
প্রিয় কাবেরী দি, তোমার হারানোর ও শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। জয় করার আছে অনেক কিছু। ’অসত্যের কাছে কভূ নত নাহি হবে শির, ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ লড়ে যায় বীর।’
