৫ই আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে এক জঘন্যতম রাষ্ট্রবিরোধী তাণ্ডবের দিন। সেদিন যে শুধু নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারকেই ক্যু করে ফেলে দেয়া হয়েছিল তা নয়, সেদিন রাষ্ট্রের একটি মূল স্তম্ভ – বাংলাদেশ পুলিশকে পরিকল্পিতভাবে আক্রান্ত হয়েছিল, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল অসংখ্য থানা, পিটিয়ে-পুড়িয়ে হ ত্যা করা হয়েছিল দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের। এই হ ত্যা কাণ্ড ছিল একটি সচেতন রাজনৈতিক কৌশলের অংশ – প্রথমে পুলিশকে জনবিচ্ছিন্ন করা, তারপর তাদের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ চালিয়ে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুরোপুরি অকার্যকর করে ফেলা।
পরিতাপের বিষয়, এই গণহত্যার প্রায় দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত জবাবদিহি নিশ্চিত করা তো দূরের কথা, বরং হ ত্যা কারীদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বৈধতার আসনে বসানো হয়েছে। অথচ প্রশ্ন উঠলে বলা হয়, “আগে অন্যদের বিচার হোক।” অর্থাৎ, একটি হ ত্যা কাণ্ডের বিচার আরেকটি হ ত্যা কাণ্ডের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে? এক শ্রেণির মানুষের হত্যাকারী পার পেয়ে যাবে, কারণ অন্য আরেক ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি এখনও বিচারের আওতায় আসেনি? এটা তো ন্যায়বিচারের দর্শন নয়, এটা রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা আর ফ্যাসিবাদী দ্বিচারিতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
পুলিশ হ ত্যা র বিচার চাওয়াকে আজ “একপেশে” বলে চিহ্নিত করে প্রশ্নটিকেই ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। এই কৌশলের উদ্দেশ্য একটাই, পুলিশ বাহিনীকে চিরতরে ভীতসন্ত্রস্ত ও নিষ্ক্রিয় করে রাখা। যাতে তারা আর কখনও রাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়াতে না পারে। যারা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বে, তাদেরই যখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় খোলাখুলি টার্গেট করা হয়, তখন বুঝতে হবে সেখানে রাষ্ট্র নয়, অরাজকতাই মূল শক্তি।
তাই ৫ই আগস্ট আমাদের কাছে শুধু নি হ ত পুলিশদের স্মরণ দিবস নয়, সতর্কতারও দিন। পুলিশ হ ত্যা র বিচার চাওয়া কোনো পক্ষপাতদুষ্ট দাবি নয়, এটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষার দাবি। যতদিন না এই বর্বরতার বিচার হবে, ততদিন ৫ই আগস্ট শুধু পুলিশ বাহিনীর জন্যই নয়, গোটা জাতির জন্যই লজ্জা আর কলঙ্কের দিন হয়ে থাকবে।
