আমরা নিন্ম স্বাক্ষরকারীগণ রংপুরের নৃশংস চার হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করছি।
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাঁদের দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। একই পরিবারের চারজন মানুষকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা কোনোভাবেই একটি সাধারণ অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মানবতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের ওপর এক ভয়াবহ আঘাত।
একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, ও তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের সন্তানদের নিজ বাসভবনে এমন নির্মম পরিণতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং এ ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে যে গল্প বা নাটক সাঁজিয়েছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। পুলিশের ভূমিকা ও আচার আচরণ খুবই সন্দেহজনক। তাঁদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথাও প্রকাশিত হয়েছে। রংপুরের নৃশংস চার হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। তবে মামলার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে কোনো ধরনের তাড়াহুড়া, একপেশে সিদ্ধান্ত কিংবা তদন্তে গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়।
আমরা জোরালোভাবে দাবি করছি-
১. হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে।
২. হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৩. কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা যাবে না এবং কোনো অপরাধীকেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় রেহাই দেওয়া যাবে না।
৪. তদন্তের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও যাচাই করতে হবে।
৫. হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের সব তথ্য জনসমক্ষে স্পষ্ট করতে হবে।
৬. দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৭. রংপুরসহ সারা দেশে মাদক, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিরুদ্ধে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৮. সারাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনেরও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করতে হবে
আমরা বিশ্বাস করি, একটি সভ্য ও
গণতান্ত্রিক সমাজে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আজ যদি একটি পরিবার নিজ ঘরেও নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার চারজনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত স্বজনদের প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক সমবেদনা।
আমাদের স্পষ্ট দাবি-
তদন্তে স্বচ্ছতা চাই, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা চাই।
রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই দাবি অব্যাহত থাকবে।
১) তাজুল মোহাম্মদ, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত
২) শাহ মোস্তাইন বিল্লাহ, সভাপতি, ভিএজি’বি
৩) প্রফেসর ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন, প্রাক্তন ভিসি, বীর মুক্তিযোদ্ধা
৪) প্রফেসর ড. মো: আবদুল আওয়াল, প্রাক্তন ভিসি
৫) অধ্যাপক ডাক্তার সুধেন্দু বিকাশ দাশ
৬) বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহেদ বখত ময়নু
৭) বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক সুবল চন্দ্র পাল
৮) কবি হামোম প্রমোদ সিনহা
৯) বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মুহিবুর রহমান
১০) বীর মুক্তিযোদ্ধা দিলীপ কর্মকার
১১) ব্যারিষ্টার শামীম হাসান
১২) অধ্যাপক ওমর সেলিম শের
১৩) রিয়েলটর ও সংস্কৃতিজন শাহ বাহাউদ্দিন শিশির
১৪) সাংবাদিক গুলজাহান বখত রুমী
১৫) পেশাজীবী অদিব বখত
১৬) লেখক ও সাংবাদিক মহসীন বখত
১৭) অধ্যাপক বিদ্যুৎ ভৌমিক
১৮) সাংবাদিক সদেরা সুজন
১৯) সাংবাদিক ও সমাজকর্মী দীপক ধর অপু
২০)অভিনেতা, নাট্যকার ও নাট্য নির্দেশক- মাহমুদুল ইসলাম সেলিম
২১) কথাসাহিত্যিক সালমা বানী
২২) কবি শিক্ষক ড. বাদল ঘোষ
২৩) কবি ও সংস্কৃতিজন দেলওয়ার এলাহী
২৪) গিটারিস্ট ও সংগীতশিল্পী এনামূল কবির
২৫) রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী নাহিদ কবির কাকলি
২৬) অধ্যাপক ড. শিশির ভট্টাচার্য
২৭) অধ্যাপক ড কুদরত এ খুদা
২৮) এক্টিভিস্ট আইনজীবী ড. রুমানা নাহিদ সোবহান
২৯) কানাডা বঙ্গবন্ধু পরিষদ সভাপতি আমিন মিয়া
৩০) সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী ফারহানা শান্তা
৩১) বাচিকশিল্পী হিমাদ্রি রয়
৩২) নাট্যাভিনেতা আহমেদ হোসেন
৩৩) এক্টিভিস্ট নারীযোদ্ধা সেলিনা সিদ্দিকী শুশু
৩৪) সাংবাদিক চিন্তক সুমন রহমান
৩৫) কবি লেখক অলোক চৌধুরী
৩৬) তয়মুন্নেছা ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান ইয়াহইয়া আহমেদ
৩৭) সংস্কৃতিকর্মী সুশান্ত দাশ
৩৮)বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক হাওলাদার
৩৯) কবি ও রাজনীতিক জেবুল হাসান
৪০) কবি শামীমা কালাম
৪১) সরগম মিউজিক একাডেমির পরিচালক রনজিত মজুমদার
৪২) অধ্যক্ষ ডরিন মলি গোমেজ
৪৩) প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, গোয়েলফ ইউনিভার্সিটি, অন্টারিও
৪৪) শিক্ষক খন্দকার জাহানারা হোসেন
