বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি বহুজাতিক কোনো প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছে না। ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট (UNCTAD) এর জরিপ অনুযায়ী আফ্রিকা মহাদেশের অপেক্ষাকৃত ছোট অর্থনীতির দেশ উগান্ডা ও ঘানা থেকেও কম বিদেশি বিনিয়োগ পাচ্ছে বাংলাদেশ । অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেই বসেছেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া অর্থনীতির অবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব না।’ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনুস তার সময়কালে দেশি বিদেশি বিনিয়োগের বহুমাত্রিক খাত উন্মোচন করে দেখালেও কোনো বিনিয়োগ আসেনি, উল্টো তার সময়কালেই বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ খাতে সবচেয়ে বড় ধস নামে।
শেখ হাসিনার সর্বশেষ ১৭ বছরের শাসনামলে বিদেশি বিনিয়োগের স্বর্ণযুগ পার করেছে বাংলাদেশ। ভারত চীনের মধ্যে ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকলেও রাশিয়া, চীন, জাপান, ভারতকে এক পাতিলে পানি পান করিয়েছেন শেখ হাসিনা।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকা সফরে আসলে বাংলাদেশ চীনের মধ্যে কূটনৈতিক ও অংশীদারিত্বের সম্পর্ক উন্নতি হয় এবং বাংলাদেশ চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়। যার ফলে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত ও শিল্প উন্নয়নে সহজ ঋণের শর্তে একের পর এক বড় বড় চীনের বিনিয়োগ আসতে থাকে। চীন প্রতিটি অবকাঠামো প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের সময় দিয়েছিল ১৫-২০ বছর, তবে ঋণ পরিশোধ শুরু হওয়ার আগে ৫-৬ বছর রেয়াতকাল দিয়েছিল৷
কর্ণফুলী টানেল, পদ্মাসেতুর রেললাইন প্রকল্প, ঢাকা- আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও সেতু নির্মাণ, পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, চট্রগ্রামের শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ, সারাদেশ জুড়ে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানা স্থাপন সহ অসংখ্য উন্নয়নে বিনিয়োগ প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছিল চীন৷
শেখ হাসিনার শাসনামলে জাপানের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জাইকা অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী ছিল বাংলাদেশের। অত্যন্ত সহজ ঋণ ও দীর্ঘমেয়াদি ৩০-৪০ বছরে ঋণ পরিশোধের সময়কাল ও ঋণ পরিশোধের আগে ১০ বছর রেয়াতকাল দিয়েছিল।
জাপান বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, যমুনা সেতুতে রেল লাইন সংযুক্ত, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র, নারায়ণগঞ্জে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পসহ অসংখ্য প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে।
এদিকে রাশিয়া তাদের নিজস্ব ৯০% অর্থায়নে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করে দেয়, সামরিকখাতে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে। এছাড়া বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে কূপ খনন করে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহায়তা করতে বিনিয়োগ করে।
ভারত রেলওয়ে খাত আধুনিকায়ন, সড়ক যোগাযোগ, বাস সরবরাহ, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাংলাদেশ ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে ৭.৮৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে।
একজন ব্যক্তি শেখ হাসিনার আন্তজার্তিক অঙ্গনে যে ফেইস ভেল্যু রয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে কারো নেই। যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার সাহস পাচ্ছে না। শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতির কারণে করোনা মহামারী, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কখনো ক্রাইসিস মোমেন্টে যায়নি। সুতরাং একজন শেখ হাসিনা থেকে এদেশের সরকার প্রধানদের অনেক কিছু শেখার আছে।
