Close Menu

    সাবস্ক্রাইব

    সর্বশেষ খবরের সাথে আপডেট থাকুন।

    জনপ্রিয় সংবাদ

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিবৃতি : ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার জবাব জনগণই দিবে

    September 7, 2026

    রাশিয়ার প্রযুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন:  শুরু থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাধা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র

    September 7, 2026

    বর্তমান সময়ে উন্নত তথ্য প্রযুক্তি যুগে হাইটেক টাকা পাচারের নতুন ফাঁদ!

    September 7, 2026
    Facebook Instagram WhatsApp TikTok
    Facebook Instagram YouTube TikTok
    JoyBangla – Your Gateway to Bangladesh
    Subscribe
    • হোম পেইজ
    • বিষয়
      • দেশ (Bangladesh)
      • আন্তজাতিক (International)
      • জাতীয় (National)
      • রাজনীতি (Politics)
      • অথনীতি (Economy)
      • খেলা (Sports)
      • বিনোদন (Entertainment)
      • লাইফ স্টাইল (Lifestyle)
      • শিক্ষাঙ্গন (Education)
      • টেক (Technology)
      • ধম (Religion)
      • পরবাস (Diaspora)
      • সাক্ষাৎকার (Interview)
      • শিল্প- সাহিত্য (Art & Culture)
      • সম্পাদকীয় (Editorial)
    • আমাদের সম্পর্কে
    • যোগাযোগ করুন
    JoyBangla – Your Gateway to Bangladesh
    Home » শেখ হাসিনা: উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করে বাংলাদেশে জঙ্গিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে
    Politics

    শেখ হাসিনা: উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করে বাংলাদেশে জঙ্গিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে

    JoyBangla EditorBy JoyBangla EditorSeptember 3, 2026No Comments10 Mins Read
    Facebook WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook WhatsApp Copy Link

    স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার, অর্থনীতি-গণতন্ত্র-উন্নয়ন ধ্বংস করে বাংলাদেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পাশাপাশি দেশে ফেরার বিষয়ে ভারত কিংবা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে গোপন সমঝোতার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন তিনি।

    আওয়াম লীগ সভাপতি বলেছেন, একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও উন্নত দেশ শুধু বাংলাদেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এমন নয়। একই সঙ্গে তা ভারতের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

    তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর ইস্যুর সঙ্গে তাঁর (শেখ হাসিনার) তথাকথিত ‘প্রত্যর্পণের’ দাবিকে যুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

    হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর।

    এই বিশেষ সাক্ষাৎকারটি এখানে প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো-

    প্রশ্ন: আপনি কি (দেশে) ফেরার টাইমফ্রেম চূড়ান্ত করেছেন? আওয়ামী লীগের যে নেতারা স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন, আপনি কি তাঁদেরকে সঙ্গে নিয়ে ফেরার পরিকল্পনা করছেন? আপনার সংবাদ সম্মেলনে কেন বলেছেন দেশে ফিরলে আপনাকে হত্যা বা গ্রেপ্তার করা হতে পারে?

    শেখ হাসিনা: আমি বলেছি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবো। কারণ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত চলতে দেওয়া যায় না। যথাযথ সময়ে আমি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় এবং কোন পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করবো তা জানিয়ে দেবো। আমি দেশে ফিরতে চাই। কারণ, বাংলাদেশকে উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার সরকারের সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলারে। মাথাপিছু আয় ৪৮২ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ২৭৮৪ ডলার। এই অগ্রগতিকে এখন ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

    আওয়ামী লীগের সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল শতকরা ৬.৮০ ভাগ। তা থেকে কমে এখন জিডিপি দাঁড়িয়েছে ২.২২ ভাগ। ৫৪ বছরের মধ্যে প্রথমবার শিল্পখাত ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে রেকর্ড করেছে। দারিদ্র্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগ কমেছে। নতুন করে কমপক্ষে দুই কোটি মানুষ বেকার হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট আবার ফিরেছে। এটা শুধু আওয়ামী লীগের ইস্যু নয়। এটি একটি জাতীয় সংকট। যখন উন্নয়ন থেমে যায়, তখন কর্মসংস্থান হারায়। যখন আইন ভেঙে পড়ে, তখন জনগণ নিরাপত্তা হারায়। যখন উগ্রপন্থি নেটওয়ার্ক আবার সুযোগ পায়, তখন বাংলাদেশ আঞ্চলিক উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে।

    আওয়ামী লীগের বহু নেতা দেশের বাইরে। অন্য অনেকে বাংলাদেশের ভিতরেই আছেন। কিন্তু তাঁরা আত্মগোপন করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। কে কখন ফিরবেন তা দলীয় পরামর্শের মাধ্যমে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমি চাই না কোনো নেতা, কোনো কর্মী বা সমর্থক অপ্রয়োজনে বিপদের মুখে পড়ুক।

    আমার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৬০০টি বানোয়াট মামলা হয়েছে। আমার জীবন নিয়ে হুমকি নতুন নয়। ১৯৭৫ সালে আমার পরিবারকে হারিয়েছি। তারপর বাংলাদেশে ফিরে আমি সামরিক শাসন, স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্র এবং বার বার হত্যাচেষ্টার মুখোমুখি হয়েছি। আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আমার পাবলিক র‌্যালিতে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড ছোড়া হয়েছিল। সেখানে কমপক্ষে ২৪ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩০০ মানুষ আহত হন। আমি বেঁচে যাই। কিন্তু আমার সহকর্মীদের অনেকে বাঁচতে পারেননি।

    তারপরও ওই হামলা আমাকে থামাতে পারেনি। এখন হুমকি আমাকে আমার দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। আমার নিজের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। ক্ষমতার জন্য আমি ফিরবো না। জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ফিরবো।

    প্রশ্ন: আপনি কি দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের প্রস্তুতি শুরু করেছেন?

    শেখ হাসিনা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ একমাত্র দল, যা সৃষ্টি হয়েছে ১৯৪৭ সালে। সৃষ্টির সময় থেকেই এ দল দেশের জন্য কাজ করেছে। আমার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দলকে নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ এবং উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে আওয়ামী লীগ। মানুষকে গরিব থেকে ব্যবসায়ী ও বেতনভোগী শ্রেণিতে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ। বেতনভুক্ত শ্রেণি, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করেছে। আমরা স্বল্পোন্নত একটি দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত করেছিলাম প্রায়।

    আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী অর্থনীতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ৩৫তম অবস্থানে ছিল। ভারতের পরে আমরা ছিলাম দ্বিতীয়। কিন্তু এখন তারা (সরকার) সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যার উত্থান হয়েছে সাধারণ জনগণ থেকে। অসাংবিধানিক বা অবৈধভাবে ক্ষমতালোভী ব্যক্তিরা এর উত্থান ঘটাননি। সামরিক স্বৈরাচার বাংলাদেশে ক্ষমতা গ্রাস করেছিল। তারা সামরিক শাসন জারি করেছে। গঠন করেছে রাজনৈতিক দল। মুহাম্মদ ইউনূসও অসাংবিধানিক সরকার গঠন করেছিলেন এবং একটি দল সৃষ্টি করেছেন।

    আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করা হলো? আওয়ামী লীগ যদি অনেক খারাপ কাজ করে থাকে, তাহলে জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। আমরা ভালো হই বা খারাপ হই, নির্বাচনে আমরা জনগণের কাছে যাব এবং তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা যদি খারাপ কাজ করে থাকি, জনগণ আমাদের প্রত্যাখ্যান করবে। যারা ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের কী অধিকার আছে আমাদের দলকে নিষিদ্ধ করার? তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে মামলায় জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ৬ লাখ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে কি কারও কথা বলা উচিত নয়?

    ২০২৪ সালের ১৫ই জুলাই থেকে যারা অগ্নিসংযোগ, হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, যারা পুলিশ সদস্য এবং দীপু দাসের মতো মানুষকে হত্যা করেছে- তাদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে না। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদীদের অবাধে কাজ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আওয়ামী লীগ আছে এবং থাকবে। তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে বা অন্য যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারে, কিন্তু আওয়ামী লীগের জনসমর্থন ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে দলটি টিকে থাকবে।

    আমি নিয়মিত আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলি এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। যদিও এক কোটি নেতাকর্মী গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং দুই কোটি মানুষ নিজেদের পরিবারের সঙ্গেও আর যোগাযোগ করতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের সদস্যদের ওপর এত নির্যাতন চালানোর পরও যদি জনগণের মধ্যে কোনো দল জনপ্রিয় থাকে, তাহলে সেটি আওয়ামী লীগ। মানুষ এখনো এই দলের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখে।

    প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কি আপনি ভারত সরকার বা ঢাকার সরকারের সঙ্গে গোপন আলোচনা বা সমঝোতা করেছেন?

    শেখ হাসিনা: আমার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত একান্তই আমার নিজের এবং এটি আমার দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। ঢাকার সরকারের সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা নেই। যারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে এবং আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা করেছে, তারা কোনো গোপন সমঝোতার অংশীদার হতে পারে না।

    প্রশ্ন: কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির চাপের কারণে বিএনপি সরকার আপনার প্রত্যর্পণের জন্য চাপ দিচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

    শেখ হাসিনা: এই প্রশ্নটি আমাকে না করে বিএনপি বা তারেক রহমানকে করা উচিত। আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আমি শুধু বলতে পারি, জামায়াত ও বিএনপি সবসময় একসঙ্গে ছিল, অতীতেও তারা একসঙ্গে নির্বাচন করেছে। প্রকৃত অর্থে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দ্বিতীয়ত, ইউনূসও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এবং এই তিনটি গোষ্ঠী মূলত একই। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কী চলছে, তা আমি জানি না। তবে আমরা সবসময় মনে করি, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত।

    আমি যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখন আমার পিতা যে পররাষ্ট্রনীতি দিয়ে গিয়েছিলেন, সেটিই অনুসরণ করেছি- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। আমি যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখন বাংলাদেশের সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। আমরা প্রতিটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলাম। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতি, দারিদ্র্য বিমোচন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করা, যাতে তাঁরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

    আমি জানতাম, বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব না দিলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। গ্রামের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে শিল্পায়নও হবে না। আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর, তবে আমি শিল্পায়নও করতে চেয়েছিলাম।

    প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আপনার সর্বশেষ বৈঠকে তিস্তা নদীর উন্নয়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। এখন আমরা দেখছি, বিএনপি সরকার এই প্রকল্পে চীনের সঙ্গে কাজ করছে, যা ভারতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং ২.৩ বিলিয়ন ডলারে চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মত কী?

    শেখ হাসিনা: আমি শুধু বলতে পারি, আমি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াটে নিয়ে গিয়েছিলাম এবং প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছিলাম। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে হয়, কিন্তু বাংলাদেশের কাছে এখন সেগুলো কেনার অর্থ নেই। মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।

    আমাদের ছয়টি সার কারখানার মধ্যে পাঁচটি গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে আছে। তারা সার সরবরাহ করতে পারছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের সময়ের মতো ব্যাপক সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচিও তাঁদের নেই। তারা টিকা কেনেনি এবং হাজার হাজার শিশু হামে মারা গেছে।

    শিল্পকারখানাগুলোকে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনও তারা দিতে পারছে না। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান কেনার পেছনে এত অর্থ ব্যয়ের কারণ কী? আমারও একই প্রশ্ন। তবে এই প্রশ্ন বিএনপি সরকারকেও করা উচিত। তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে আমরা ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। বর্তমান সরকার কী করছে, সে বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।

    প্রশ্ন: আপনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশকে ‘আরেকটি পাকিস্তানে’ পরিণত হওয়ার বিষয়ে এবং বিভিন্ন উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের কারণে নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে আপনি কি বিস্তারিত বলবেন?

    শেখ হাসিনা: জয় যা বলেছে, তা কোনো আবেগপ্রসূত বক্তব্য ছিল না। বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এটি ছিল একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। ‘আরেকটি পাকিস্তান’ বলতে কোনো দেশের সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়নি। এর অর্থ হলো উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং দুর্বল হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বিপজ্জনক সমন্বয়। বাংলাদেশকে সেই দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে এবং এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই বিপজ্জনক।

    জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। স্থানীয় তদন্তেও একই ধরনের আশঙ্কার কথা উঠে আসছে।

    সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে কেরানীগঞ্জ থেকে সাভার পর্যন্ত একাধিক ঘটনার সঙ্গে একই উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের যোগসূত্রের কথা বলা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রেসার কুকার বোমা, পাইপ বোমা, গ্রেনেড, বিস্ফোরক সামগ্রী, অস্ত্র এবং নব্য-জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ-এর (নব্য জেএমবি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে এসেছে। যখন আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা ও দেশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত একই দিকে ইঙ্গিত করে, তখন কোনো দায়িত্বশীল সরকার এই হুমকি অস্বীকার করতে পারে না।

    ধর্মীয় উন্মত্ত জনতার সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার, দরগাহ, ভাস্কর্য, সাংস্কৃতিক স্থাপনা ও ধর্মনিরপেক্ষ প্রতীকগুলো হামলার শিকার হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতাও দুর্বল করা হচ্ছে। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটের মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলো ভেঙে দেয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। যখন জঙ্গিদের ছেড়ে দেয়া হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তাদের হয়রানি বা নিপীড়নের শিকার হতে হয়, তখন এর ফল দাঁড়ায় জাতীয় নিরাপত্তায় এক ধরনের শূন্যতা।

    উগ্রবাদী নেটওয়ার্কগুলো যদি বাংলাদেশে আবারও নিরাপদ পরিবেশ পেয়ে যায়, তাহলে এর প্রভাব ভারত, মিয়ানমার, বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক বাণিজ্য, অভিবাসন, সামুদ্রিক যোগাযোগপথ, কূটনৈতিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা পর্যন্ত পৌঁঁছাবে। তাই জয়ের সতর্কবার্তাটি শুধু রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।

    প্রশ্ন: ভারতে আপনি কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন? বাংলাদেশের কোন বিষয়টি আপনার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে?

    শেখ হাসিনা: যেকোনো রাজনৈতিক নেতার জন্য নিজের জনগণের কাছ থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে কঠিন বিষয়। নির্বাসন আমার জীবনে নতুন কিছু নয়, কিন্তু জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা কখনো সহজ হয় না। আমি ভারতে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে অবস্থান করছি এবং এর জন্য ভারত সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। আমি প্রতিদিন বাংলাদেশের পরিস্থিতির খোঁজ রাখি। আমাদের নেতাকর্মীদের অবস্থা, নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলো, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং তরুণদের হতাশার বিষয়গুলো সম্পর্কে আমি নিয়মিত খোঁজ রাখি।

    আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে বাংলাদেশের মানুষকে- তাঁদের মুখ, ভাষা, সরল বিশ্বাস এবং গ্রামবাংলার মাটিকে। আমি সেই বাংলাদেশকে মিস করি, যে বাংলাদেশ ভয় নয়, আশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল।

    প্রশ্ন: বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশে ফেরা নিয়ে শেষ মন্তব্য

    শেখ হাসিনা: যেভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিপীড়ন ও নির্যাতন করা হচ্ছে, তাঁদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হচ্ছে তা শুরু হয়েছিল (অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান) ইউনূসের সময়ে। এমন কোনো দিন নেই, যেদিন মানুষ হত্যা করা হচ্ছে না। রংপুরের ঘটনাই ধরুন। সেখানে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। বগুড়া শহরে আমাদের যুব শাখার একজন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিটি দিন এবং রাতে হত্যাকাণ্ড চলছে।

    আমাদের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করছে অথবা গ্রেপ্তার করছে। তারা বাড়িঘরে ঢুকে নারী পুরুষকে অপমান করছে। প্রহার করছে। প্রবীণদের হয়রানি করছে। এই পরিস্থিতিতে আমি বুঝতে পারি না কীভাবে ‘প্রত্যর্পণ’ একটি শর্ত হতে পারে। আমি তো আমার নিজের দেশে ফিরবো। বুঝতে পারি না কেন তাতে আপত্তি জানানো হচ্ছে। তারা ‘প্রত্যর্পণ’ চুক্তি নিয়ে কথা বলছে। আমি নিজের ইচ্ছায় আমার দেশে ফিরতে চাই। আমি ফিরবো। আমি কি সারাজীবন বিদেশে কাটাতে পারি? দেশে, আমার লোকজনের কাছে আমাকে ফিরতে হবে।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখনই, যখন গণতন্ত্র ধ্বংস হয়। উগ্রপন্থিদের উত্থান হয়। সংখ্যালঘুরা অনিরাপদ বোধ করেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

    হিন্দুস্তান টাইমস

    featured
    Share. Facebook WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাংলাদেশি ক্রেতাদের পাশে যুক্তরাজ্য, মিলবে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত সহায়তা
    Next Article ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কা, ৮৬ টন সোনা লন্ডনে সরাল নেদারল্যান্ডস
    JoyBangla Editor

    Related Posts

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিবৃতি : ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার জবাব জনগণই দিবে

    September 7, 2026

    আমেরিকার কাছে মাথা নত করে দেশ বিক্রির গল্প, অন্যদিকে গৃহপালিত দোসরদের দেশপ্রেমের ঢোল—“দিল্লি না ঢাকা” নাটক!

    September 7, 2026

        ‘অর্ধেক সাংবাদিক কারাগারে, জামিন নেই, কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে গণমাধ্যমের’—সজীব ওয়াজেদ জয়ের তীব্র ক্ষোভ

    September 7, 2026

    শেখ হাসিনা অনুপস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে শেখ সেলিম, জানালেন শেখ হাসিনা

    September 7, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    সম্পাদকের পছন্দ

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিবৃতি : ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার জবাব জনগণই দিবে

    September 7, 2026

        ‘অর্ধেক সাংবাদিক কারাগারে, জামিন নেই, কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে গণমাধ্যমের’—সজীব ওয়াজেদ জয়ের তীব্র ক্ষোভ

    September 7, 2026

    শেখ হাসিনা অনুপস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে শেখ সেলিম, জানালেন শেখ হাসিনা

    September 7, 2026

    UCLএর ক্লাসরুমে সিমি

    September 6, 2026
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • TikTok
    মিস করবেন না
    Politics

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিবৃতি : ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার জবাব জনগণই দিবে

    By JoyBangla EditorSeptember 7, 20260

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের তহবিল আত্মসাত্‌ নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানাসহ…

    রাশিয়ার প্রযুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন:  শুরু থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাধা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র

    September 7, 2026

    বর্তমান সময়ে উন্নত তথ্য প্রযুক্তি যুগে হাইটেক টাকা পাচারের নতুন ফাঁদ!

    September 7, 2026

    আমেরিকার কাছে মাথা নত করে দেশ বিক্রির গল্প, অন্যদিকে গৃহপালিত দোসরদের দেশপ্রেমের ঢোল—“দিল্লি না ঢাকা” নাটক!

    September 7, 2026

    সাবস্ক্রাইব

    সর্বশেষ খবরের সাথে আপডেট থাকুন।

    About Us
    About Us

    মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও লালন করে দেশ ও বিদেশের খবর পাঠকের কাছে দুত পৌছে দিতে জয় বাংলা অঙ্গিকার বদ্ধ। তাৎক্ষণিক সংবাদ শিরোনাম ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পেতে জয় বাংলা অনলাইন এর সঙ্গে থাকুন পতিদিন।

    Email Us: info@joybangla.co.uk

    Our Picks

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিবৃতি : ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার জবাব জনগণই দিবে

    September 7, 2026

        ‘অর্ধেক সাংবাদিক কারাগারে, জামিন নেই, কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে গণমাধ্যমের’—সজীব ওয়াজেদ জয়ের তীব্র ক্ষোভ

    September 7, 2026

    শেখ হাসিনা অনুপস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে শেখ সেলিম, জানালেন শেখ হাসিনা

    September 7, 2026

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.