দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার ঘটনাগুলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। কোনো শিক্ষক যদি ক্ষমতার অপব্যবহার, সহিংসতা, হুমকি, অনৈতিক আচরণ বা অন্য কোনো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকেন, তাহলে অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও নিশ্চিত করা জরুরি যে, অভিযোগ এবং অপরাধকে যেন রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা অতীতের অবস্থানের সঙ্গে এক করে দেখা না হয়।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং কয়েকজনকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিজ্ঞপ্তিতেও এসব সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে শিক্ষক সংগঠনগুলো এসব ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ অনুসরণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে শিক্ষক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্ত ও আইনসম্মত যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব উদ্বেগকে উপেক্ষা না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত অভিযোগগুলোকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
আমাদের উদ্বেগ শাস্তি দেওয়ার অধিকার নিয়ে নয়; উদ্বেগ হলো শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনোভাবেই বিচারহীনতার ক্ষেত্র হতে পারে না, আবার প্রতিশোধের ক্ষেত্রও হওয়া উচিত নয়। অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে তা জানাতে হবে, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে, অভিযুক্ত শিক্ষককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই নীতি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়াই একটি ন্যায়ভিত্তিক উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়।
বিশেষ করে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি অতীতের রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে একের পর এক অন্যায্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক হতে পারে। আজ যে মত বা পরিচয়ের কারণে একজন শিক্ষক আক্রান্ত হচ্ছেন, ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক বাস্তবতায় একই যুক্তি অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হতে পারে। ন্যায়বিচারের মূলনীতি- ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তাঁর নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড ও তা প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে ন্যায়সংগত অবস্থান গ্রহণের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ থাকলে যথাযথ শাস্তি হোক; আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাকে সম্মানজনকভাবে একাডেমিক কাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। কোনো শিক্ষককে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা অতীতের অবস্থানের কারণে একাডেমিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করা যেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিণত না হয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত ন্যায়, যুক্তি, মুক্তচিন্তা, বহুত্ববাদ ও সহনশীলতার নিরাপদ ক্ষেত্র। এখানে জবাবদিহিতা অবশ্যই থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা থাকবে না; শৃঙ্খলা থাকবে, কিন্তু ভয় থাকবে না; বিচার থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিশোধের সংস্কৃতি থাকবে না।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্পষ্ট ভাষায় বলতে চায়, জবাবদিহিতা চাই—কিন্তু ন্যায়বিচারের মাধ্যমে। শাস্তি হোক—প্রমাণের ভিত্তিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা চাই—কিন্তু তা একাডেমিক স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার বিনিময়ে নয়। এর অন্যথা হলে, তার দায়ভার বর্তমান সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আঁধার কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক
(আওয়ামীলীগ পেইজ)
