সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে নিয়োগকর্তাদের শোষণ ও আধুনিক দাসত্বের শিকার হওয়া দক্ষ অভিবাসী কর্মীদের ভিসার নিয়মে বড় ধরনের স্বস্তি দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে কেয়ার ওয়ার্কার ও শেফসহ নিপীড়নের শিকার কর্মীরা চাকরি ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাবেন এবং এতে তাঁদের অভিবাসন মর্যাদা বাতিল হবে না। ব্রেক্সিট-পরবর্তী শ্রম সংকট কাটাতে চালু হওয়া নিয়মের সুযোগ নিয়ে অনেক অসৎ নিয়োগকর্তা কর্মীদের জিম্মি করে রাখছিলেন বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। এর প্রেক্ষিতে সরকার জানিয়েছে, আধুনিক দাসত্বের শিকার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেলেই কর্মীরা ভিসার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নতুন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারবেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে কর্মীদের শোষক নিয়োগকর্তার হাত থেকে মুক্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কনজারভেটিভ সরকার ২০২১ সালে ব্রেক্সিট-পরবর্তী শ্রমঘাটতি পূরণে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা ব্যবস্থা চালু করে। তবে এই নিয়মে কর্মীদের কাজের অনুমতি নির্দিষ্ট স্পনসর বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁরা অসহায় অবস্থায় পড়তেন। ফলে চাকরি ছাড়লে দ্রুত নতুন স্পনসর না পেলে কর্মীদের যুক্তরাজ্য ছাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতো, যার অপব্যবহার করছিল কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজমের মাধ্যমে যারা আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক দাসত্বের শিকার হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন, তাঁদের এই বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না। সালভেশন আর্মির ডেপুটি ডিরেক্টর মেজর হিদার গ্রিনস্টেড বলেন, বেঁচে ফেরা এসব মানুষকে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ দেওয়া তাঁদের জীবন নতুন করে ও সম্মানের সঙ্গে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
ওয়ার্ক রাইটস সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ড. ডোরা-অলিভিয়া ভিকল মনে করেন, এই পরিবর্তন ইতিবাচক হলেও এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সহায়তা কাঠামো কতটা সহজলভ্য তার ওপর। তিনি জানান, বিদ্যমান স্পনসরশিপ ব্যবস্থার কারণে কর্মীরা শোষিত হচ্ছেন বলে তাঁরা প্রায় তিন বছর ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করে আসছিলেন। এদিকে লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ৬ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি স্পনসরের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে গত জুন পর্যন্ত এক বছরেই বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৪০০টি।
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব বিষয়ক মন্ত্রী জো হোয়াইট জানান, অভিবাসন মর্যাদার কারণে আধুনিক দাসত্বের শিকার কাউকে শোষক নিয়োগকর্তার কাছে বন্দি থাকতে হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যেসব স্পনসর কর্মীদের শোষণ করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নতুন করে কেয়ার ওয়ার্কার ভিসার আবেদন বন্ধ হওয়ায় গত বছর দক্ষ কর্মী ভিসা প্রদানের সংখ্যা আগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ৭৬ শতাংশ কমে ১ লাখ ১১ হাজারে নেমে এসেছে।
