দেশে চলমান সার সংকট নিয়ে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জানিয়েছে যে, সরকারের অদূরদর্শীতা, অব্যবস্থাপনা ও দলীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ থেকেই দেশে সার সংকট তৈরি হয়েছে। একদিকে সরকার বলছে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, অন্যদিকে বাস্তবতা হলো কৃষক চাহিদা মতো সার পাচ্ছে না। বরং অবৈধ সিন্ডিকেটের কাছ থেকে চড়া মূল্যে সার ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারের কথা অনুযায়ী যদি পর্যাপ্ত সারের মজুদ থেকেই থাকে, তাহলে তো বাজারে সারের ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। ফলে খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে যে, অবৈধ ও মজুতের মাধ্যমে সার বিতরণ ব্যবস্থায় পরিকল্পিতভাবে বিঘ্ন ঘটিয়ে সার সংকট তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, এই সংকটের মূলে রয়েছে লাইসেন্স ছাড়া বিএনপি দলীয় ভূয়া ডিলার ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা। এই সিন্ডিকেট কৃষকের কাছ থেকে বাড়তি ও অবৈধ মুনাফা আদায়ের জন্যই সংকট তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, দেশে এই ধরনের সারের সংকট এবারই প্রথম নয়। ১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনও সারের দাবিতে কৃষকরা আন্দোলনে নেমেছিল। মাসব্যাপী সংঘটিত এই কৃষক আন্দোলনকে দমাতে তখন ১২ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাতের মেয়াদকালেও সার, সেচ ও কৃষি উপকরণের তীব্র সংকট ছিল। সারাদেশে কৃষকরা আন্দোলনে নেমেছিল। দমন-পীড়ন ও পুলিশি নির্যাতনের মাধ্যমে সেই আন্দোলনকে দমানো হয়েছিল। বর্তমান সংকটের প্রেক্ষিতে বলা যায়, ইতিহাস থেকে বিএনপি কোন শিক্ষা গ্রহণ করেনি।
২০২৬ সালের পাতানো নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর আবারেও দেশে সার সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে এলাকায় কৃষকেরা বাধ্য হয়ে গুদামে হামলা চালিয়ে সার নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যা অতীতের ঘটনাচক্রের পুনরাবৃত্তি বলেই প্রতীয়মান। চলমান এই কৃত্রিম সার সংকট প্রমাণ করেছে যে, বিএনপি যখনই সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকে তখনই দেশে সারের সংকট দেখা দেয়। এ থেকে একটি বিষয় পরিস্কার যে, বিএনপি কখনোই কৃষক-বান্ধব নয়। জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
সার সংকট উত্তরণে সরকারের উদাসীনতা ও ব্যর্থতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এখনই যদি বিএনপি-দলীয় সিন্ডিকেটের হাত থেকে সারের বিতরণ ব্যবস্থাকে মুক্ত না করা যায়, তাহলে দেশের কৃষি উত্পাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সামগ্রিকভাবে দেশে খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কৃষক বাঁচাতে, দেশ বাঁচাতে অনতিবিলম্বে সার বিতরণ ব্যবস্থাকে বিএনপি দলীয় সিন্ডিকেট মুক্ত করার এবং ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের কাছে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আঁধার কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। (আওয়ামীলীগ পেইজ)
