ইয়াসমীন সুলতানা পলিন
ইউনূসের সেই পুরোনো কৌশল— শুরু হয়েছে দিল্লি কার্ড খেলা। একদিকে পার্বত্য চট্রগ্রাম মার্কিনীদের হাতে তুলে দিয়ে জামাতকে দিয়ে বিএনপি তামাশার রং মার্চ খেলছে।
আমেরিকার সামনে জাতীয় স্বার্থের হিসাব কোথায় থাকে, যখন ইউনূস দেশ বিরোধী গোলামী চুক্তি করে? এই চুক্তির অংশীজন তারেক রহমান সহ বামাতি, জামাতি, ওয়াকার-ইউনূস, নূরা, সাকী, জিল্লুর সহ সব কুলাঙ্গারের দল।
“দিল্লি না ঢাকা” বললেই মানুষ বোঝে, হিপোক্রেসিটা কোথায়। ভারতের নাম উঠলেই হঠাৎ বুক ফুলে ওঠে তাদের; এ কেমন পররাষ্ট্রনীতি? জনগণ এখন এত বোকা নয় যে স্লোগান শুনে সব ভুলে যাবে।
একদিকে ক্ষমতার লোভে বিদেশি শক্তির সঙ্গে গোপন চুক্তি করে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হয়, আর অন্যদিকে জনগণের আবেগে আগুন ধরাতে “দিল্লি” কার্ড খেলা হয়—তাহলে এটাকে জাতীয়তাবাদ নয়, স্রেফ রাজনৈতিক প্রতারণার নাটক বলাই বেশি সঙ্গত।
মজার ব্যাপার হলো—
নাটকের পোস্টার বদলায়, স্লোগান বদলায়, কিন্তু পরনির্ভরশীলতার চরিত্রটা বদলায় না। তাই প্রশ্নটা “দিল্লি না ঢাকা?” নয়। প্রশ্নটা হলো—
ঢাকার সিদ্ধান্ত কি সত্যিই ঢাকায় হয়?
বাংলাদেশকে কারও বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর আগে, বাংলাদেশকে কারও পক্ষে বিক্রি করা বন্ধ করুন। কারণ এই দেশ কোনো পরাশক্তির প্রক্সি মঞ্চ নয়। এই দেশ ১৮ কোটি মানুষের—
জনগণ স্লোগানের রাজনীতি নয়—জাতীয় স্বার্থের রাজনীতি দেখতে চায়।
আনুগত্য নয়—সার্বভৌম সিদ্ধান্ত চায়।
বিদেশি ইশারা নয়—বাংলাদেশের মানুষের ম্যান্ডেট চায়।
যে শক্তিই হোক—ওয়াশিংটন, নয়াদিল্লি কিংবা অন্য কোনো রাজধানী—বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে বাংলাদেশই। এই দাবি শুধু বলার নয়—ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠা করার সময় এখনই। বাংলাদেশ কারও করদরাজ্য নয়, কারও প্রক্সি নয়—বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশেই হবে। দিল্লি নয়, ওয়াশিংটন নয়—সবার আগে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্বার্থই শেষ কথা।
