বন্দরের শ্রমিকের চেক আটকে আছে আট মাসেরও উপরে আর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পকেটে সরকারি বোনাসের থামাথামি নেই বিগত ছয় মাসে!
সাড়ে চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এক লাখ টাকা বোনাস তুলেছেন মার্চে। এখন একই রেকর্ড দেখিয়ে আরেক দফা দেড় লাখ টাকার ফাইল বসে আছে মন্ত্রণালয়ে। একই কনটেইনার, একই বছরের হিসাব, শুধু নাম বদলে একবার ক্যালেন্ডার ইয়ার আরেকবার ফিসক্যাল ইয়ার। ব্যাপারটা এতটাই খোলামেলা যে লুকানোর চেষ্টাও নেই।
মজার তথ্য হলো, এই বোনাসের তালিকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রায় দুইশ কর্মকর্তাও আছেন। যাদের কাজ বন্দরের হিসাব যাচাই করা, নজরদারি করা, তারাই যখন বন্দরের টাকায় ভাগ বসান, তখন নজরদারি নামের জিনিসটা আসলে কী থাকে সেটা বোঝা কঠিন না। বিএনপি সরকারে বসেই প্রথম যে কাজটা দেখাল সেটা হলো রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে আত্মীয়স্বজন আর পোষ্য কর্মকর্তাদের ভাগবাটোয়ারার জায়গা বানানো।
২০২১ সালে বন্দরে সাড়ে তেরো শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, কোনো বোনাস ছাড়াই। এবার চার শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখিয়েই একশ সতেরো কোটি টাকা তুলে নেওয়ার আয়োজন। অথচ যে শ্রমিকরা সত্যিকার অর্থে জাহাজ থেকে পণ্য নামান, তাদের পঁচিশ হাজার টাকার চেক হাতে পেতে আট মাস লেগে গেছে। কর্মকর্তাদের বেলায় ছয় মাসেই মিলে গেছে দেড় গুণ বেশি টাকা। কার স্বার্থ আগে দেখা হচ্ছে বুঝতে বিশ্লেষক লাগে না।
