তারেক রহমানকে নিয়ে মন্তব্য করলেই গ্রেপ্তার—উঠছে অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন
লেখাঃ রৌদ্র রুদ্র, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক
▪️গদি রক্ষার ভয়ে বাকরুদ্ধ করার উৎসব: কোন অন্ধকারের দিকে চলেছে দেশ?
ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে বর্তমান স্বেচ্ছাচারী সরকার আজ মানুষের মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতার টুঁটি চেপে ধরেছে। সমালোচনার ভয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে সেচ্ছাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামান্য একটি মন্তব্য, পোস্ট বা ভিডিও শেয়ার করার অপরাধেই একের পর এক নাগরিককে তুলে নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করে রাষ্ট্রকে আজ একটি ভীতিকর কারাগারে পরিণত করা হয়েছে।
▪️দমন-পীড়নের নগ্ন চিত্র ও আইনি প্রহসন
মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মুছে ফেলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে একের পর এক সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এর জ্বলন্ত উদাহরণ:
* ২৭ মার্চ ২০২৬ (মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ):
আজিজুল হককে তারেক রহমানকে নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করার অপরাধে গ্রেপ্তার করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও সন্ত্রাস দমন আইনের কালাকানুন চাপিয়ে দেওয়া হয়।
* সেপ্টেম্বরের শুরু ২০২৬ (গাজীপুর):
সিফাত আব্দুল্লাহকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির বানোয়াট অভিযোগে তুলে নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়—যা আইনের চরম অপপ্রয়োগ।
* ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সিলেট):
মেহেদী আহমেদকে ফেসবুকে তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অজুহাতে রাতে আটক করা হয়। পুলিশ স্বীকার করেছে যে পোস্ট নিয়ে সুনির্দিষ্ট মামলা করার ভিত্তি ছিল না! তা সত্ত্বেও পুরোনো মামলায় তাঁকে কারাবন্দি করা হয়েছে।
* ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মেহেরপুর):
সঞ্জয় কুমার দাসকে তারেক রহমানকে নিয়ে ভিডিও প্রকাশের জেরে আটকের ঘটনাও একই সূত্রে গাঁথা। সাইবার নজরদারির নামে ভিন্নমতাবলম্বীদের হয়রানি করার এই অপসংস্কৃতি চরম আকার ধারণ করেছে।
ফেসবুক পোস্ট বা মন্তব্যের জন্য সরাসরি আইনি ভিত্তি না পেয়ে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর এই প্রবণতা আইনের শাসনের সঙ্গে প্রহসন।
সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজ স্বেচ্ছাচারিতা চালানো হচ্ছে।
▪️সংবিধানের পাতা ও কালাকানুনের বাস্তব চিত্র
সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ প্রতিটি নাগরিকের বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনার ভয়ে আজ সেই সাংবিধানিক অধিকারকে পদদলিত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়—এই সাধারণ বিচারবুদ্ধিও আজ প্রশাসন ভুলে গেছে। আদালতের মুখোমুখি করার আগেই ক্ষমতার জোরে মানুষের কণ্ঠরোধ করার এই উন্মত্ততা কোনো সুস্থ রাষ্ট্রের লক্ষণ হতে পারে না।
▪️ সরকারের কাছে জনগণের তীব্র প্রশ্ন
* সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে করা পোস্টের অজুহাতে এভাবে মানুষকে তুলে নিয়ে ভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর লাইসেন্স আপনাদের কে দিয়েছে?
* ভিন্নমত দমনের জন্য কি সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার অধ্যাদেশকে হাতিয়ার করা হয়েছে?
* সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের বাকস্বাধীনতা কি কেবল তোষামোদকারীদের জন্য?
ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, এই স্বেচ্ছাচারিতাও চিরকাল টিকবে না। আইন প্রয়োগের নামে নাগরিকের কণ্ঠ রোধ করার এই সংস্কৃতি ভেঙে দিতে হবে। বাকস্বাধীনতা রক্ষার এই লড়াইয়ে প্রয়োজন সোচ্চার কণ্ঠ!
