৪০০-তে ৪০০ পেয়েও পদবি বাদ দিলেন সৃজনী, ধর্মের ঘরে লিখলেন ‘Humanism’।
সাফল্যের সংজ্ঞা শুধু পরীক্ষার নম্বরে সীমাবদ্ধ নয়—নিজের চিন্তা ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রেও স্বাধীনভাবে অবস্থান নেওয়া যায়, সেটিই যেন দেখিয়ে দিয়েছেন কলকাতার ১৭ বছর বয়সী সৃজনী।
দক্ষিণ কলকাতার The Future Foundation School-এর এই শিক্ষার্থী ২০২৫ সালের ISC দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ৪০০-এর মধ্যে ৪০০ নম্বর পেয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিটি বিষয়ে ১০০ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছেন তিনি।
তবে সৃজনী শুধু দুর্দান্ত ফলাফলের জন্যই আলোচনায় আসেননি। পরীক্ষার ফর্ম পূরণের সময় তিনি নিজের পদবি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বক্তব্য, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ কিংবা আর্থিক অবস্থানের মতো পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভাজনে তিনি বিশ্বাস করেন না।
সৃজনী জানিয়েছেন, পদবি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বন্ধু ও কাছের মানুষদের কাছে তিনি সবসময় নিজের প্রথম নামেই পরিচিত। তাই পদবির সঙ্গে যুক্ত সামাজিক পরিচয়ের ‘বোঝা’ বহন করতে চাননি তিনি। এই সিদ্ধান্তে তাঁর বাবা-মা ও বোনের পূর্ণ সমর্থন ছিল।
শুধু পদবি নয়, পরীক্ষার ফর্মে ধর্মের ঘরেও নিজের মতো করে পরিচয় লিখেছেন সৃজনী। সেখানে তিনি লিখেছিলেন “Humanism” বা মানবতাবাদ। তাঁর এই অবস্থান মূলত মানুষকে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ ও সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সমানভাবে দেখার বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত।
সৃজনীর পরিবারেও এমন মূল্যবোধের চর্চা ছিল। তাঁর বাবা দেবাশিস গোস্বামী ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং শান্তি স্বরূপ ভাটনাগর পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী। তাঁর মা গোপা মুখার্জি গুরদাস কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তাঁর মা জানিয়েছেন, দুই মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই সামাজিক বিভাজন ও বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার মূল্যবোধে বড় করেছেন।
পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক বিষয়েও সক্রিয় ছিলেন সৃজনী। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট আরজি কর মেডিকেল কলেজের ঘটনার পর আয়োজিত ‘Women Reclaim the Night’ কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন।
ভবিষ্যতে বাবার মতোই বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের গবেষণায় যেতে চান সৃজনী। তাঁর লক্ষ্য পদার্থবিজ্ঞান বা গণিত নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা করা।
সৃজনীর গল্প তাই শুধু ৪০০-তে ৪০০ পাওয়ার গল্প নয়। একদিকে অসাধারণ একাডেমিক সাফল্য, অন্যদিকে নিজের পরিচয় ও মূল্যবোধ নিয়ে স্বাধীনভাবে ভাবার সাহস—দুই দিক থেকেই তাঁর পথচলা আলাদা করে নজর কেড়েছে।
তথ্যসূত্র: Hindustan Times, ThePrint/PTI, The Telegraph India, The Times of India, The Economic Times — in West Bengal.
