ইংল্যান্ডে গণপরিবহনে যাত্রীদের ভ্রমণ স্বস্তিদায়ক করতে নতুন কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে বাসে উচ্চশব্দে গান বাজালে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে সর্বোচ্চ ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। একই সঙ্গে যত্রতত্র ময়লা ফেলা, ভেপিং ও অসদাচরণ বন্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ট্রেনে আগে থেকেই এমন বিধান থাকলেও এবার বাসেও নিয়মটি কঠোরভাবে কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। তবে বাস চালক নন, বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা এই নিয়ম বাস্তবায়ন করবেন।
যুক্তরাজ্যের ট্রেনে উচ্চশব্দে গান বাজানো ও গান গাওয়ার বিরুদ্ধে ২০০৫ সাল থেকেই আইন রয়েছে। সেখানে নিয়ম অমান্যকারীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া কিংবা এক হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে নতুন এক প্রচারণার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, অনেকেই ট্রেনে বসে মুঠোফোনে বিকট শব্দে গান বা ভিডিও বাজান, যা সহযাত্রীদের ভীষণ বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং পুরো ভ্রমণের আনন্দই মাটি করে দেয়।
বাসে পরিবেশ শান্ত রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোকে নতুন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে, যা কার্যকর হতে পরিবহন মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে সাধারণ বাস চালকদের এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছে সরকার। বিজ্ঞান ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস ম্যাকডোনাল্ড বিবিসিকে জানান, কোনো যাত্রী অস্বস্তিবোধ করলে নিজে সংঘাতে না গিয়ে বাসকর্মী বা ট্রান্সপোর্ট পুলিশকে অভিযোগ জানাতে পারেন।
এদিকে নতুন এই উদ্যোগকে অনেকে স্বাগত জানালেও এটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। নিউক্যাসলের জাস্টিন নামের এক যাত্রী জানান, বাসে এমন বিরক্তিকর পরিবেশের কারণেই তিনি গণপরিবহন এড়িয়ে নিজের গাড়িতে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে পরিবহন ইউনিয়ন টিএসএসএ-এর সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম এসলামদৌস্ত এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বললেও পরিবহন কর্মীদের ওপর হওয়া সহিংসতা ও হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত বাজেট বাড়ানোর দাবি জানান।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা মাঠে না থাকলে এই আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে যাত্রী অধিকার বিষয়ক সংস্থা ট্রান্সপোর্ট ফোকাসের কর্মকর্তা অ্যালেক্স ক্যাম্পবেল জানান, জরিপে দেখা গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ যাত্রী গণপরিবহনে নানা অসদাচরণের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ফলে উচ্চশব্দে গান বাজানো ও ধূমপান কমানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ আবারও বাসে চড়তে উৎসাহিত হবেন।
