ভারতের তামিলনাড়ুতে কারাগারে বন্দির অসুস্থতার ভান করে কারারক্ষীদের ওপর হামলা চালিয়ে ১৭ জন বন্দি পালিয়ে গেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যেই চার পালিয়ে যাওয়া বন্দিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রিপাবলিক ওয়ার্ডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
একই কক্ষে থাকা বন্দিরা একজন অসুস্থ হওয়ার নাটক করলে ঘটনা তদন্তে কারারক্ষীরা কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই বন্দিরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় থেক্কামপট্টি উপ-কারাগারের ২য় গ্রেডের পুলিশ কর্মকর্তা থাঙ্গাপান্ডি মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পান এবং তাকে জি ভিলান্কু সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া আরও দুই কারারক্ষী সামান্য আহত হন।
সাউথ জোনের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বিজয়েন্দ্র বিদারি এবং কর্মকর্তারা যৌথভাবে চার বন্দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তামিলনাড়ু পুলিশ ১৭টি বিশেষ দল গঠন করে মাদুরাই, দিন্দিগুল ও ইডুক্কি জেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি জোরদার করেছে এবং ১৬টি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি করছে।
দিন্দিগুলের পুলিশ সুপার এস জয়কুমার এএনআই-কে জানান, ‘থেনি উপ-কারাগার থেকে ১৭ জন বন্দি পালিয়ে গেছে। সতর্কতা হিসেবে আমরা প্রতিবেশী দিন্দিগুল জেলার ১৬টি স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করেছি এবং সব যানবাহন পরীক্ষা করছি।’
পলাতক বন্দিরা হলেন লিঙ্গাম, রাজা সিগেন্দার, কারুপ্পাসামী, সিলামবারাসান, তিরুপতি, মেনজিসুন্দরাম, সাবারি, পন মুথু, নিজান্থ, কার্তিক রাজা, মুগিলান, সেলভা, তরুণ, রাজকুমার, প্রবীন, মুথু ইলাঙ্গো এবং রাজুভিন। পুলিশ তাদের ছবি বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং অনেকে ভিলুপ্পুরম জেলার বাসিন্দা হওয়ায় সেখানেও নজরদারি বাড়িয়েছে।
ঘটনার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডিএমকে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য পি উইলসন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় নিজের মাথা লজ্জায় নত করা উচিত এবং রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলার এই মারাত্মক অবনতির নৈতিক দায় নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত।’ তিনি গত সপ্তাহে উচ্চ নিরাপত্তার পুঝাল কারাগার থেকে বন্দি পালানোর ঘটনা তুলে ধরে কারাগারের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সূত্র: রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড
