গাজীপুরের ৮০ টি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।সাভার ও আশুলিয়ার প্রায় ৫০ টি কারখানা বন্ধ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে শ্রমিক অসন্তোষে উত্তাল রাজধানী ঢাকা।
ট্রপিক্যাল নামে একটি পোশাক কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।দেশ চালাতে সম্পূর্ণ হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত সরকার। গত ৫ আগষ্টের পর থেকে একটি মেরুদণ্ডহীন সরকার আমাদের শিল্প কারখানা ধ্বংস করে দিয়ে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিচ্ছে। পোশাক কারখানা শেষ , ওষুধ কারখানা শেষ ! বাকি আছে শুধু বিএনপি ও জামায়াতের ক্ষমতার গদি। এই গদিও আর বেশিদিন থাকবে না।
বিএনপি ও জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর থেকেই শ্রমিকদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। শ্রমিকের পেটে ভাত নেই , মজুরির নিশ্চয়তা নেই , এবং একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের মেরুদন্ড বলে খ্যাত এক একটি শিল্পকারখানা । কিন্তু এইভাবে আর কতদিন?
বিএনপি ও জামায়াত ৫ আগষ্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর থেকেই শুধু বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে ক্ষতি হয়েছে ৭,৪০০ কোটি টাকা।ওয়াশিং লিঙ্কেজ খাতে ৩,০০০ কোটি টাকা মিলিয়ে এই পর্যন্ত পোশাক খাতের ক্ষতি প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।এই পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪৫৭ টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে । নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় ৯৫ টি পোশাক কারখানা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। বিএনপি ও জামায়াত সরকারের প্রথম ছয় মাসে নতুন করে চাকরি হারিয়েছে আরও ২০ হাজার শ্রমিক। গত তিন বছরে প্রায় দুই লক্ষাধিক শ্রমিকের চাকরি নাই। এটাই কি বিএনপি ও জামায়াতের নতুন বাংলাদেশ ?
সন্তানকে বাঁচাতে দৌড়ে পালাচ্ছেন মা। পোশাক শ্রমিককে রাস্তায় রক্তাক্ত করে ফেলে রেখে গেছে পুলিশ। জ্বলছে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল। রাজনৈতিক হয়রানির কারণে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো গ্রুপের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। কিছুদিন আগে বিমানবন্দরে পুড়ে গেল ওষুধ শিল্পের ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল। একের পর এক ওষুধ ফ্যাক্টরি জ্বলছে। এই বাংলাদেশ কি চেয়েছিলেন আপনারা?
বিএনপি ও জামায়াত ৫ আগষ্ট ক্ষমতা দখলের পর পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের পোশাক ও ওষুধ শিল্পকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াত সরকারের মেরুদণ্ডহীন অর্থনীতির জন্য ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে পোশাক শিল্পের উৎপাদন। দিন দিন বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মত দেউলিয়া হওয়ার পথে। বিএনপি ও জামায়াত সরকারের রাজনৈতিক সহিংসতা ও দুর্বল পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য নীতির কারণে ইতিমধ্যেই ৪০০ কোটি ডলারের রপ্তানি অর্ডার হারিয়েছে পোশাক শিল্প। এইভাবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই জেল ও হত্যা করা হচ্ছে শ্রমিকদের। এইভাবে অদ্ভুত এক উটের পিঠে রাষ্ট্র চলতে থাকলে দেশের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কোথায় যাবে ?
এই দেশের শ্রম শিল্প ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পুরাই শেষ 😭 এই দেশটা নিয়ে ভালো কিছু আর কোনদিনও আশা করবেন না। বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন করতে গিয়ে গুপ্ত শিবিরের ফাঁদে পা দিয়ে আজ নিজেদের শেষ সম্বল পর্যন্ত হারাতে বসেছে। ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পথে বসে গেছে । লক্ষ লক্ষ পরিবারের সামনে আজ অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই নেই।
