মাত্র ১৬ বছর বয়সেই রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির হয়ে কাজ করা পুতিন এই মুহূর্তে পুরো বিশ্বকে আলো দেখাতে পারেন। ট্রাম্প নাখোশ হওয়ার পরও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী যে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার জন্য তাকে একটা ধন্যবাদ দিতেই হয়।
৪.৭৫ বিলিয়ন মানুষের জনপদ হচ্ছে এশিয়া। পৃথিবীর প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ এশিয়ায় বসবাস করে। পৃথিবীর উন্নত চারটি পরশাক্তি চীন, জাপান , রাশিয়া ও ভারত যদি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এক হয়ে কাজ করে তবে ওরা সারা বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। বর্তমান বিশ্বের অর্থনীতির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে চীন।
বর্তমান বিশ্বের তেল ও অস্ত্রের বাজারে অদম্য পরাশক্তি হচ্ছে রাশিয়া। প্রযুক্তির বাজারে অন্যতম শীর্ষ দুটি দেশ জাপান ও চীন।ভারতও তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে সমানতালে।সময় এখন বিভেদের নয় , সময় হচ্ছে ঐক্যর। এই ঐক্য রক্ষায় সবচেয়ে বড় ভুমিকা নিতে হবে চীন ও ভারতকে।একে অপরকে আস্থায় নেওয়ার মাধ্যমে এই চারটি দেশের পক্ষে পুরো বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকা দুটো প্যারাসাইট তৈরি করে রেখেছে। বাংলাদেশে ইউনূস আর পাকিস্তানে শাহবাজ শরীফ।এসব আমেরিকার ফ্রাঙ্কেনস্টাইন দানবদের এখনি মোকাবেলা না করা গেলে এই দেশ দুটো ভবিষ্যতে পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।মান ও অভিমান ভুলে ৭ বছর পর মোদীর চীন যাত্রার দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্ব।এশিয়ার ৪.৭৫ বিলিয়ন মানুষের ভাগ্য নির্ভর করছে এখন চীন ও ভারতের উপর।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা শেখ হাসিনা সরকারকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ” বাংলাদেশে আরব বসন্তের মত অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।” রাশিয়ার এটা কোন অনুমান ছিলো না। পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ নিয়েই আমেরিকার এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক করেছিলো রাশিয়া। এতো কিছুর পরও সরকার ও গোয়েন্দাদের ব্যর্থতার জন্য আজ যে দেশটা এগিয়ে যাচ্ছিলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই দেশে আমেরিকা বসিয়ে দিয়েছে পুতুল ইউনূস সরকার।অপরদিকে পাকিস্তানেও শেখ হাসিনার মতো ইমরান খানকে হটিয়ে বসিয়ে দেওয়া হলো শাহবাজ শরীফ নামক এক পুতুল সরকার। নিজেদের এশিয়া মহাদেশে আমেরিকার এই খবরদারি ও ষড়যন্ত্র দুটোকেই ভালো ভাবে নেয়নি রাশিয়া, ভারত ও চীন। চীন প্রথমে স্বাগত জানালেও এখন বুঝতে পারছে এশিয়ার বর্তমান দুই বিষফোঁড়া হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
পাকিস্তানের জ-ঙ্গী উৎপাদন এশিয়ায় আফগানিস্তান ও ইরান কারো জন্যই ভালো ফল বয়ে আনেনি। পাকিস্তান হচ্ছে সেই দেশ যেই দেশের সেনাপ্রধান আমেরিকার রাষ্ট্রপতির এক ডিনারের কাছেই নিজেকে বিক্রি করে দেয়। অপরদিকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও আমেরিকার ডলারের গন্ধ নাকে আসতেই কেমন যেন হয়ে গেলেন।এই যেন মেলায় হারিয়ে যাওয়া দুই সৎ ভাই।এই সৎ ভাইদের মাঝখানে নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে আমেরিকার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে জঙ্গীবাদের ভয়াবহ বিস্তার। এক্ষেত্রে মায়ানমার ও ভারত কেউই বর্তমানে ইউনূস সরকারের উপর সন্তুষ্ট নয়।
রাজনীতির মাঠে পুতিনকে সবাই পাকা খেলোয়াড় হিসেবে চিনেন। সিরিয়ায় ইরানপন্থী বাশার আল আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রেখেছিলো পুতিন। ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধে আমেরিকার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে এই যাত্রায় ইরানকে রক্ষা করে নিয়েছে পুতিনের রাশিয়া।ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধে আমেরিকা যেখানে পরোক্ষভাবে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছে, সেখানে রাশিয়া সরাসরি ভারতকে সমর্থন করে গেছে।ভারতের পক্ষে তাই কখনোই ভারতের সবচেয়ে বড় মিত্র রাষ্ট্র রাশিয়াকে ত্যাগ করা সম্ভব নয়। অপরদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে চীন সরাসরি রাশিয়ার পক্ষ নিয়েছে। বর্তমান সময়ে সমগ্র বিশ্ব যে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে তা থেকে বিশ্ববাসীকে উদ্ধার করতে পারে একমাত্র পুতিন। পুতিনের পক্ষেই সম্ভব বিশ্ব মানচিত্রের জিও পলিটিক্স বদলে ফেলা। এক্ষেত্রে ভারত ও চীন নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকলে আর কিছুই লাগেনা।
আমেরিকার ডিপ স্টেটের ডলার বাণিজ্য ঠেকাতে ভারত , চীন ও রাশিয়া মিলে ব্রিকস গঠন করেছে। এছাড়াও ভারত, রাশিয়া ও চীনের আছে আরআইসি জোট। বিশ্বের সম্মিলিত জিডিপির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছে রাশিয়া, চীন ও ভারত। চীন, ভারত ও রাশিয়া ইতিমধ্যে আমেরিকার ডলারের বিপরীতে রুবল, ইউয়ান ও রুপির প্রচলন শুরু করেছে। চীন ও রাশিয়া ইতিমধ্যে তাদের সোভারেন ওয়েলথ ফান্ডের ব্যবহার করে ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রা সঞ্চয় শুরু করেছে।এই তিনটি দেশ নিজেদের মধ্যে যত ঐক্যবদ্ধ হবে তত এশিয়া মহাদেশে আমেরিকার আধিপত্য ধ্বংস হবে। আমেরিকার এই আধিপত্য ধ্বংস করতে পারলে বাংলাদেশের পাপেট ইউনূস ও পাকিস্তানের পুতুল শাহবাজ শরীফ এদের অস্তিত্বও থাকবে না।লন্ডনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন যতোই তারেক জিয়ার সাথে গুপ্ত বৈঠক করুক এসব আর কোন কাজেই আসবে না।
চীনের বোহাই সাগরের তীরে শি জিনপিং, মোদী ও পুতিনের এই বৈঠকে এশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।ভারত ও চীন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে এক্ষেত্রে আবারোও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় পুতিন।এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালে এসসিও সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন মোদি। অপরদিকে চীন ও জাপান অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন মোদি। চীন সফর শেষে মোদি যেতে পারেন জাপান। মধ্যে এশিয়ার সাথে ভারতের এই সম্পর্ক জোরদার করার প্রক্রিয়া আগামীদিনের বিশ্ব রাজনীতিতে কী কী পরিবর্তন নিয়ে আসছে তার দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পৃথিবীর ৮০০ কোটি মানুষ।
সত্য সবসময় সুন্দর, লুসিড ড্রিম ০৭-০৮-২০২৫
