আমার প্রাণপ্রিয় কৃষক ভাই ও বোনেরা, আগামীকাল ৩০ অক্টোবর, ‘কৃষক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ দিবসে আপনাদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই।
এই দিনে, ১৯৮৯ সালে নরসিংদীর রায়পুরায় এক ঐতিহাসিক কৃষক সমাবেশে আমি ঘোষণা করেছিলাম—’কৃষক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’। সেই আহ্বান আজ শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি আমাদের জাতীয় উন্নয়নের মূলমন্ত্র। বাংলাদেশ কৃষক লীগ সেই দিন থেকে এই স্লোগানকে সাংগঠনিক চেতনা হিসেবে ধারণ করে, কৃষকের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি—
– জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।
– ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদকে, যাঁরা রক্ত দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন।
– ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সকল শহিদকে, যাঁরা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য হিসেবে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
– ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসে নিহত জাতীয় নেতাদের, যাঁরা স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন।
– ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ, ন্যায্য মূল্যে সার আনতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত সকল শহীদ কৃষককে।
– ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তথাকথিত আন্দোলনের আড়ালে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যার শিকার হওয়া সকল পুলিশ সদস্যকে, যাঁরা গণতন্ত্র রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন।
– নিহত সকল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে, যাঁরা মুজিব আদর্শে অবিচল ছিলেন।
– সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহিদদের, যাঁদের ত্যাগে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় কৃষিবান্ধব সরকার ছিল। সার সহ কৃষি উপকরণ কৃষককে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দিত। এজন্য আওয়ামী লীগের আমলেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছিল। অন্য সব সরকার কৃষক শোষণের নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপি-জামাত জোট আমলে সারের দাবিতে কৃষককে আন্দোলনে নামতে হয়েছিল। বাংলাদেশ পেয়েছিল কৃষকের গুলিবিদ্ধ লাশ।সেই ধারাবাহিকতায় আজকের খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গংরা কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থ পরিপন্থী নীতি গ্রহণ করেছে। সারা দেশে সার সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষক আত্মহত্যা করছে। এগুলোর প্রতিবাদ করতে গিয়ে এবং কৃষকের অধিকার রক্ষার কথা বলতে গিয়ে সারা দেশে বাংলাদেশ কৃষক লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিনা বিচারে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষক লীগের সংগ্রামী সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র চন্দকে অবৈধ দখলদার খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় কারান্তরীণ করে রেখেছে। কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আপসহীন কণ্ঠকে এই ফ্যাসিস্ট গং ভয় পায়। ফলে আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের মতো তাঁকেও অন্যায়ভাবে বিনা বিচারে আটকে রেখছে। তাঁর সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও নেতৃত্ব সংগঠনের জন্য অনুপ্রেরণা।
এই কঠিন সময়ে আমার নির্দেশে বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সারা দেশের কৃষক লীগের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। তারা কৃষকদের অধিকার আদায়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং রক্ষায় কাজ করছে। আগস্ট মাস ব্যাপী রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র কৃষকদের সহায়তা, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি—এই সবই প্রমাণ করে, কৃষক লীগ শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি মানবিক আন্দোলন।
আমার প্রিয় কৃষক ভাই ও বোনেরা, আপনারাই জাতির খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি। আপনাদের ঘামেই বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।
আসুন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আমরা সবাই একসাথে কাজ করি।জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ কৃষক লীগ দীর্ঘজীবী হোক। কৃষক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও।
