বাংলাদেশের প্রাণ সেই মানুষগুলো, যাদের ঘামের বিনিময়ে এই দেশ দাঁড়িয়ে আছে শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালক, গার্মেন্টস কর্মী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিটি সদস্য। ভোরের আলো ফুটতেই তারা ছুটে যায় কাজে, কেউ মাঠে, কেউ কারখানায়, কেউ আবার শহরের ব্যস্ত রাস্তায়। কিন্তু আজ সেই পরিশ্রমী মানুষের জীবন চলছে অন্ধকারে, অনিশ্চয়তায় ও ক্ষুধার যন্ত্রণায়। দ্রব্যমূল্য এমনভাবে বেড়েছে যে, একবেলার খাবার জোগাড় করাও এখন তাদের কাছে বিলাসিতা।
যে দেশ একসময় উন্নয়ন ও আশার প্রতীক হয়ে উঠেছিল, আজ সেখানে হতাশা, অভাব আর শোষণের ছায়া নেমে এসেছে। একসময় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই শ্রমজীবী মানুষদের মুখে ফুটেছিল হাসি। কর্মসংস্থান বাড়ছিল, কৃষকের পণ্য পেত ন্যায্য দাম, শ্রমিক পেত মজুরি, সাধারণ মানুষ বেঁচে ছিল নিরাপদে। কিন্তু আজ চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। দখলদার ইউনুসের অবৈধ সরকারের লোভ, ব্যর্থতা ও নিপীড়নে সেই হাসি মুছে গেছে।
দেশের অর্থনীতি আজ ভেঙে পড়েছে। ব্যাংক খাতে দুর্নীতি, রিজার্ভে ঘাটতি, শিল্পে স্থবিরতা, এবং কর্মসংস্থানের সংকটে লাখো মানুষ দিশেহারা। বিদেশি বিনিয়োগ কমছে, রপ্তানি খাত হোঁচট খাচ্ছে, আর বাজারে আগুন চালের দাম থেকে শুরু করে শিশুখাদ্য পর্যন্ত সবকিছু নাগালের বাইরে। মানুষ আজ প্রশ্ন করে, “আমরা কিভাবে বাঁচব? কবে এই অন্যায় বন্ধ হবে?”
এই প্রশ্নের জবাবই খুঁজবে ১৩ই নভেম্বর। এটি কেবল একটি দিন নয় এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক জাগরণের দিন। সেদিন খেটে খাওয়া মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক সবাই এক কণ্ঠে উচ্চারণ করবে তাদের অধিকারের কথা। লকডাউন মানে থেমে যাওয়া নয় বরং এটি হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। সেদিন থেমে যাবে শোষণের চাকা, জেগে উঠবে জনতার শক্তি।
দখলদার ইউনুসের নিপীড়ন আর শোষণ শুধু অর্থনীতিতে নয়, মানুষের মনেও বিষ ঢেলে দিয়েছে। বিচারব্যবস্থা হয়েছে পক্ষপাতদুষ্ট, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ হয়েছে, ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল স্বাধীনতা, ন্যায় ও সমতার আদর্শে। আজ সেই চেতনা রক্ষার জন্যই দরকার নতুন ঐক্য, নতুন প্রতিরোধ।
যারা দেশের মাটিকে ভালোবাসে, যারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাস করে তাদের একত্রিত হওয়া এখন সময়ের দাবি। কারণ এই দেশ গড়ে উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষের ঘাম ও ত্যাগে। তাদের কণ্ঠরোধ করে কোনো শাসন টিকে থাকতে পারে না।
১৩ই নভেম্বর তাই শুধু একটি তারিখ নয় এটি এক অঙ্গীকার, এক শপথ। এই দিনেই শুরু হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণজাগরণ, দখলদার শাসনের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিরোধ।
আজ সময় এসেছে অধিকারের জন্য দাঁড়ানোর, মায়ের চোখের জল মুছে দেওয়ার, শিশুর মুখে হাসি ফেরানোর। এখন সময় জনতার ঐক্যে স্বৈরশক্তিকে পরাজিত করার।
আমরা থামব না, হার মানব না দখলদার ইউনুসের শোষণের বিরুদ্ধে জেগে উঠবে জনতার বাংলাদেশ।
