বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কারাগারের অভ্যন্তরে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, স্লো পয়জনিং এবং চিকিৎসা বঞ্চনার অভিযোগ উত্থাপন করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানায়, তাদের কাছে আসা তথ্য ও অভিযোগ অনুযায়ী কারা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে একটি “সংগঠিত মৃত্যু–পরিবেশ” তৈরি করা হয়েছে, যেখানে আক্রমণের ধরন ও ঘটনার পুনরাবৃত্তি একই রকম বলে উল্লেখ করা হয়।
আওয়ামী লীগের অভিযোগ, প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী বিভিন্ন সময়ে কারা অভ্যন্তরে মারা গেছেন এবং এসব মৃত্যুকে তারা “একই স্ক্রিপ্টে পরিচালিত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে বিবেচনা করছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দলটি আরও জানায়, মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সদস্য থেকে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতা পর্যন্ত এই ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারা কর্মকর্তাদের একটি অংশ বন্দিদের খাবারে স্লো পয়জন মেশানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে—এমন অভিযোগ দলটির কাছে এসেছে। আওয়ামী লীগের দাবি, এসব বিষক্রিয়ার প্রভাবে কারা ভেতরেই কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করছেন, আর যারা মুক্তি পাচ্ছেন, তারা চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে জানতে পারছেন যে তাদের শরীরে বিষক্রিয়ার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেশ কিছু ব্যক্তি ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে এসে এসব অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
পাশাপাশি আরও অভিযোগ করা হয়, বন্দিদের শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের যথাসময়ে চিকিৎসা নিতে দেওয়া হচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।
আওয়ামী লীগ তাদের বিবৃতিতে এসব ঘটনাকে “রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত পরিকল্পিত হত্যা মিশন” হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ একটি তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে বলেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।
আওয়ামী লীগের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত ছাড়া ঘটনা সম্পর্কে নিরপেক্ষ সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়।
সরকার বা কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
