আযম খান
ভারত থেকে পেঁয়াজ কেনায় বাংলাদেশ সরকার এক অলিখিত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিল। দেশের জনগোষ্ঠীর একটা অংশ আছে যাদের দুনিয়া কিভাবে চলে তা সম্পর্কে নুন্যতম ধারনা নাই তারা এতে বেশ খুশী হয়েছিল। এ সময়ে সরকার চেয়েছিল বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানী করতে। যেমন তুরস্ক, পাকিস্তান, মিশর ইত্যাদি। এখন সমস্যা হচ্ছে এগুনো পঁচনশীল দ্রব্য। তারপরে পেঁয়াজে দিন যত যায় খোসা তত বাড়ে।
দূর দেশের থেকে পঁচনশীল দ্রব্য কিনলে ব্যাবসায়ীদের পঁচে যাওয়া বা ব্যাবহার অনুপযুক্ত অংশটুকুর দামকে বিক্রির সময়ে এডজাস্ট করে নিতে হয়। তাতে বাজারে পন্যের দাম বেড়ে যায়। বেশি পরিবহন খরচ এবং সরবরাহ সংকটের ব্যাপার তো আছেই। যে কারনে এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছিলো।
১৫০ টাকা দিয়ে পেঁয়াজ কিনে খেতে হবে এই ধাক্কা লাগার পরে সরকার এখন পাগল হয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ কেনার অনুমতি পত্র দিচ্ছে। ভারতে কিন্তু পেঁয়াজের দাম বাংলাদেশের দামের তিন ভাগের এক ভাগ। আবার পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ায় ভারত থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ কম, আবার পণ্য পঁচার বা সংরক্ষণ সুবিধাও বেশি।
এই যে বাস্তবতা বিবর্জিত দেশের একটা বিশাল শ্রেনীর মানুষ যারা একটা আস্ত দেশকে ঘৃনা করে শুধু ধর্মীয় কারনে। ডোন্ট গিভ মি দিস বুলশিট তারা ধর্মীয় কারনে ঘৃনা করে না। আমিও বাংলাদেশের সমাজের মানুষ।
এই মানুষদের আপনি ভারতের বিরুদ্ধে যে কোন কিছু বললে বিশ্বাস করাতে পারবেন। এরা জীবনে যত না ভাত খেয়েছে তার চাইতে বেশি খেয়েছে প্রোপাগান্ডা। আমি প্রায়ই বলি বাংলাদেশের উচিত ভারতের সাথে সমস্ত চুক্তি বাতিল করা। কথাগুলো লেখার সময়ে কিছুটা আতংকও থাকে। চুক্তিগুলো বাতিল হলে অর্থনীতিতে, খাদ্য নিরাপত্তায় কি ভয়ংকর দূর্যোগ নেমে আসবে সেটা আমি জানি।
তবুও আমি এই কথা বলি কারন এই শ্রেনীর মানুষেরা শুধু মাত্র তখন সত্যটা অনুধাবন করে যখন তারা সাফার করে। উনাদেরও সাফারটা করা দরকার। নইলে আমাদের দুনিয়া কিভাবে কাজ করে এটা এরা কোনদিন বুঝবে না। এমনকি এটাও বুঝবে না কে আসলে তার প্রকৃত বন্ধু আর কে তার প্রকৃত শত্রু।
