গতকাল শুক্রবার বিকালে ঢাকা-৮ আসনে ইনিকিলাব মঞ্চের নির্বাচনী প্রার্থী ওসমান হাদীর ওপর আততায়ীর গুলি চালানোর ঘটনায় সারা দেশে যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সহানুভূতির ঝড় উঠেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ, যে দেশে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-অক্টবর) ২ হাজার ২১৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১১ জনের বেশি মানুষ খুন হয়েছে— সে দেশে একজনের ওপর হামলা কেন এতটা ‘বিশেষ’ হয়ে উঠল?
পুলিশ সদর দপ্তরের নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে প্রায় ২ হাজার ছিনতাইয়ের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে অক্টবর পর্যন্ত দেশে নারী নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিংসতা, গুম-খুনসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৬১০টি। ১৫ মাসে (গত বছরের আগস্ট থেকে) রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মবসন্ত্রাস, ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নদীতে ভেসে আসা অজ্ঞাতপরিচয় লাশের সংখ্যাও মাসে গড়ে ৪০-৪৫টির কম নয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এই পটভূমিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— প্রতিদিন গড়ে ১১ জন মানুষ খুন হয়, কোটি কোটি মানুষ আতঙ্কে দিনযাপন করেন, তবু হাদীর ওপর গুলির ঘটনা কেন এতটা আলোচিত ও সহানুভূতিপ্রবণ হয়ে উঠল? এটা কি গত দেড় বছরের চলমান রাজনৈতিক-অপরাধী হিংস্রতারই একটি ধারাবাহিকতা মাত্র, নাকি এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো ‘ন্যারেটিভ’ কাজ করছে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করছেন, “যে দেশে প্রতিদিন ১১টা লাশ পড়ছে, সেখানে একজনের জন্য এত কান্না কেন? নাকি শুধু ‘পরিচিত মুখ’ হলেই আমরা সহানুভূতি দেখাই?” আবার কেউ কেউ বলছেন, ওসমান হাদী একজন সাধারণ নাগরিক, রাজনৈতিক কোনো পদ-পদবি নেই—তাই তার ওপর হামলা অনেককে বেশি নাড়া দিয়েছে।
তবে বাস্তবতা হলো, গত ১৫ মাসের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে যে ধরনের প্রতিশোধমূলক হিংসা, গুম-খুন ও ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা ঘটে আসছে, হাদীর ওপর হামলা তারই একটি অংশ-আর সকল হত্যাকাাণ্ডে ইউনূস সরকারের নীরবতাই ওসমান হাদীর উপর হত্যাচেষ্টার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
দেশ যখন প্রতিদিন গড়ে ১১টি খুনের সংবাদে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, তখন একটি ঘটনাকে ‘বিশেষ’ করে তোলার পেছনে কি শুধুই সহানুভূতি, নাকি এর পেছনেও রাজনৈতিক-সামাজিক কোনো এজেন্ডা কাজ করছে—তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।
