স্যাম ওয়েস্ট্রপ : দ্য ইসলামিস্ট ওয়াচ
এই সপ্তাহে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কর্মকর্তারা সিলেটে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আঞ্চলিক কার্যালয়ে ইসলামপন্থী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জামায়াতে ইসলামী একটি সন্ত্রাসবাদী ও উগ্রপন্থায় বিশ্বাসী ইসলামপন্থী সংগঠন, যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল।
সিলেট সফরটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জামায়াত ও অন্যান্য বিপজ্জনক ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর নেতাদের ধারাবাহিক বৈঠকের সর্বশেষ উদাহরণ। এসব বৈঠক হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের সহিংসতার পর অনুষ্ঠিতব্য ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে।
বর্তমানে জরিপে ইসলামপন্থী দল ও তাদের মিত্ররা এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরও বেশি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসার পথে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শাখা থাকা জামায়াতে ইসলামী শুধু ১৯৭১ সালে গণহত্যা ও ব্যাপক ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিল না, বরং কয়েক দশক ধরে তারা দক্ষিণ এশিয়া ও প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়েছে। জামায়াতের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে এবং তাদের নেতারা মুসলিম সংখ্যালঘু, হিন্দু, ইহুদি ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতায় উসকানি দিয়ে আসছে।
২০১৪ সালে জেনস টেররিজম অ্যান্ড ইনসারজেন্সি সেন্টার জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বিশ্বের তৃতীয় সবচেয়ে সহিংস বেসরকারি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের একটি প্রতিবেদনেও বলা হয়, “২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে জামায়াতে ইসলামী কর্মীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালায়। এতে দুই ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়, শত শত ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয় এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।”
এক বছর পর কানাডা সরকারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবাধিকার সংগঠনগুলো বেসামরিক মানুষ ও পুলিশ হত্যার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ভূমিকা নথিভুক্ত করেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে পেট্রোল বোমা হামলাও ছিল।
তবুও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভের আগের দিন ঢাকায় আমেরিকান ক্লাবে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিক জামায়াতের এক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। একই সময়ে বাংলাদেশের কয়েকজন বিশ্লেষক অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ইসলামপন্থীদের যোগাযোগ ছিল।
২০২৫ সালে জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যোগাযোগ আরও জোরালো হয়। মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক রাষ্ট্রদূত জামায়াতের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন এবং সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জামায়াতের একটি “প্রতিনিধি দলকে” আমন্ত্রণ জানায়। সেখানে নেতৃত্ব নির্বাচন, সংগঠনের কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা এবং নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার বিষয়ে দলের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়।
জুলাই মাসে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সদর দপ্তরে যান। সেখানে তিনি জামায়াতের আমির (নেতা) শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
শফিকুর রহমান ইহুদিদের “মানবতার শত্রু” বলে উল্লেখ করেন। তিনি সম্প্রতি হামাসের সন্ত্রাসী নেতা ইয়াহইয়া সিনওয়ারকে “বীর” বলে প্রশংসা করেছেন।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন শফিকুর রহমানকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য ভিসা দেয়। সেখানে তিনি আমেরিকায় অবস্থানরত জামায়াতে ইসলামী কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি নিউইয়র্ক, বাফেলো, মিশিগান ও ওয়াশিংটন ডিসিতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন।
আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঢাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যালয়ে গিয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জরিপে ক্রমেই শক্ত অবস্থানে থাকা এই ইসলামপন্থী দলটি দেশজুড়ে শরিয়াহ আইন চালুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বাংলাদেশকে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের আদলে গড়তে চায় বলে জানিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীকে কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও অন্যান্য ইসলামপন্থী দল নিয়ে একটি জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনাও দিন দিন বাড়ছে।
জামায়াতের আরেক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দল বিএনপির শীর্ষ নেতারাও লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি ও জামায়াত যৌথভাবে লবিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রভাবশালী থিঙ্কট্যাঙ্ক, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই), বাংলাদেশে মাঠপর্যায়ে বিশেষভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের আগস্টে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকও রয়েছে।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নীতি স্পষ্টভাবে গ্রহণ করেছে। এই যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তারা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটকে ব্যবহার করছে।
আইআরআইয়ের কর্মকর্তারা জামায়াতের মিত্র বিএনপি এবং তালেবানপন্থী হিসেবে পরিচিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।
আইআরআইয়ের কয়েকটি বৈঠকে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)-এর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে আইআরআই ও এনডিআই যৌথভাবে প্রকল্প পরিচালনা করে এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মীও একসঙ্গে কাজ করেন। এই দুই প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ন্যাশনাল এনডাওমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র একা নয়। বিভিন্ন দেশের সরকার জামায়াত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১৯টি দেশের কূটনীতিক এবং তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি জামায়াত নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত এক বছরে এই সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৫টি দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, সৌদি আরব, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থাও রয়েছে।
জামায়াতের কুখ্যাত সহিংস ছাত্র সংগঠনও এখন পশ্চিমা সরকারগুলোর সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামী দাবি করছে, তারা পশ্চিমা কূটনীতিকদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনীতিকরা তাদের জিজ্ঞাসা করছেন—জামায়াত এখন কী করবে, তাদের ইশতেহার কী, এবং তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী কি না।
জামায়াতের দাবি, তাদের বক্তব্য শোনার পর অনেক কূটনীতিক বলেছেন, আগে শোনা নেতিবাচক ধারণাগুলো মিথ্যা ছিল এবং বাস্তব চিত্র কতটা বিকৃত ছিল তা বুঝে কেউ কেউ হাসিও দিয়েছেন।
২০২৪ সালে জামায়াত-সমর্থিত আন্দোলনের ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সহিংস ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে মূলধারার রাজনীতিতে জায়গা দেয়। একই সঙ্গে ইসলামপন্থী ও সংখ্যালঘুবিরোধী সহিংসতা বাড়লেও সরকার বারবার তা উপেক্ষা করেছে।
কর্তৃপক্ষ জামায়াতবিরোধী চলচ্চিত্র নির্মাতা সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরসহ অন্তত কয়েক ডজন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠিয়েছে। ধারণা করা হয়, ইসলামপন্থীদের চাপে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার স্বৈরাচারী ভাষায় ঘোষণা দেয়, শাহরিয়ার কবিরের অপরাধ ছিল “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর ও রাষ্ট্রবিরোধী আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া” এবং “বিদেশে বাংলাদেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।”
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো এখন প্রায় দায়মুক্তির পরিবেশে কাজ করছে। হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর দলবদ্ধ হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে কঠোর ধর্ম অবমাননা আইন চালুর দাবি জোরালো হচ্ছে এবং জঙ্গিবাদী তৎপরতাও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গত বছরের আগস্টে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের “কিছু সদস্য, সমর্থক ও স্থানীয় নেতা” রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের পাশাপাশি “হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের” বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সহিংস হামলায় জড়িত ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন যেন গত কয়েক দশকের পুরোনো ভুলগুলোর পথে আবারও হাঁটছে। সে সময় নীতিনির্ধারক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মুসলিম ব্রাদারহুডকে নতুন মিশরে সম্ভাব্য স্থিতিশীল শক্তি এবং অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশীদার হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলেন।
গবেষক অ্যান পিয়ার্স উল্লেখ করেন, মিশরে মুবারক সরকারের পতনের পর মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ এতটাই বিতর্কিত ছিল যে, মুবারক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও ব্রাদারহুড নেতারা নিজেরাই নির্বাচনে না দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের এই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে প্রকাশ্যে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা তো দূরের কথা, অন্তত নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার বদলে ওবামা ও হিলারি ক্লিনটন আবারও প্রকাশ্যে মিশরের নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুডের অংশগ্রহণের প্রতি সমর্থন জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পশ্চিমা সরকারগুলো আরব বসন্তের ইসলামপন্থী শক্তিগুলোকে গ্রহণ করে নেয় এবং ইসলামপন্থীবিরোধী মিত্রদের থেকে দূরে সরে যায়। একই সময়ে বিপজ্জনক ইসলামপন্থী প্রবাসী নেটওয়ার্কগুলো পশ্চিমা দেশগুলোতে নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলে এবং নির্বিঘ্নে কাজ করতে থাকে। হামাসের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পশ্চিমা সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরকারি তদন্ত ও মামলাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত আইআরআই ও এনডিআই এই ইসলামপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়ায় গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে। ২০০৭ সালেই যুক্তরাষ্ট্র ইনস্টিটিউট ফর পিসের একটি প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যে এনডিআই ও আইআরআইয়ের মাধ্যমে “আইনসম্মত ও অহিংস ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত যোগাযোগ” নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দুটি সরকারি অর্থায়িত সংস্থার ইসলামপন্থীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি এবং তারা বিশেষভাবে মরক্কো, জর্ডান ও ইয়েমেনে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। কারণ এসব দেশে রাজনৈতিক পরিবেশ তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত এবং ইসলামপন্থী রাজনৈতিক বিরোধিতা ছিল শক্তিশালী ও সক্রিয়।
ইসলামপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে ভুল ধারণা কখনোই দূর হয়নি। ২০২৪ সালেও এনডিআই প্রকাশ্যে ইয়েমেনে কাজ করেছে, যেখানে তারা সন্ত্রাস-সম্পৃক্ত মুসলিম ব্রাদারহুডের সহযোগী সংগঠন আল-ইসলাহকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে।
এর পরের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর বিদেশি ইসলামপন্থী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোটি কোটি ডলার দিয়েছে। এর মধ্যে হামাস-সংযুক্ত মুসলিম ব্রাদারহুডের মালয়েশীয় শাখাও রয়েছে।
এখন মনে হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং এনডিআই ও আইআরআইয়ের মতো আধা-সরকারি সংস্থাগুলো আবারও একই ভুল করছে। তারা বিশ্বাস করছে, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে একটি নিয়ন্ত্রণকারী বা সংযত শক্তি হতে পারে, যদিও দেশটি ক্রমেই কঠোর ও ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের দিকে এগোচ্ছে।
একটি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম জামায়াতের সদর দপ্তরে পশ্চিমা কূটনীতিকদের যাতায়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে লিখেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুহুল আমিনের মতে—পশ্চিমা শক্তিগুলো এখন ইসলামি দলগুলোকে আর গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে না। বরং তারা মনে করছে, সংবিধানের ভেতরে থেকে কাজ করলে এসব দল স্থিতিশীলতার ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, “তারা এমন অংশীদার চায় যারা মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও সুশাসনের পক্ষে থাকবে। আর তারা যাচাই করছে, জামায়াত সেই কাঠামোর মধ্যে পড়ে কি না।”
প্রশ্ন হলো—পশ্চিমা সরকারগুলো কি কখনো এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে?
