একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া প্রথম মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি ফরিদপুরের জামায়াতে ইসলামী’র নেতা আবুল কালাম আজাদ যিনি ‘বাচ্চু রাজাকার’ নামে কুখ্যাত তিনি ১৩ বছর পলাতক থাকার পর অবশেষে আত্মসমর্পণের আবেদন করেছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বাচ্চু রাজাকার নিজে সশরীরে হাজির হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় আত্মসমর্পণের আবেদন দাখিল করেন। আবেদন জমা দিয়েই তিনি ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হয়ে যান।
ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান উপস্থিত না থাকায় তার আত্মসমর্পণের আবেদনটি শুনানির আওতায় আসেনি।
গত বছরের অক্টোবরে দেশে ফিরে বাচ্চু রাজাকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিতের আবেদন করেন। সরকার তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত দেয়, যার মেয়াদ আগামী ২২ অক্টোবর শেষ হবে।
এর আগেই তিনি আত্মসমর্পণের আবেদন করলেন—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে: সাজা স্থগিত বা জামিনের নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই কি তিনি আত্মসমর্পণ করলেন?
পাকিস্থান থেকে ফিরে আসার খবরঃ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাচ্চু রাজাকার পাকিস্তান থেকে ফিরলেন ঢাকায়, কেশাগ্র স্পর্শ করেনি কেউ
এটিএম আজহারের খালাসের রায় আবারও আলোচনায়
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ড পাওয়া আরেক যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি—জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম—সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সব অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে মুক্তি পান। ২০১৪ সালে যাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল, পরে ২০২৫ সালে আপিল বিভাগ সেই রায় বাতিল করে তাকে মুক্তি দেয়। যুদ্ধাপরাধ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামির এই মুক্তি জনমতে এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।
এই প্রেক্ষাপটেই অনেকের প্রশ্ন—দীর্ঘদিন পলাতক থাকা বাচ্চু রাজাকারের হঠাৎ আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্তে কি আদালতের সাম্প্রতিক রায়গুলোর কোনো প্রভাব আছে?
২০১১ সালে বিচার শুরু হওয়ার পরই বাচ্চু রাজাকার ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। তার অনুপস্থিতিতেই ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑২ তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়।
তার বিরুদ্ধে আনীত আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটি প্রমাণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন।
