পদত্যাগ করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর মেয়ে।
বিচারপতি নাঈমা হায়দারের স্মার্টনেস, মেধা, পড়াশোনা, সাহস, বাচনভঙ্গি, উচ্চারণ, বিচারিক কাজের জন্য সব সময় বিচার বিভাগে আলোচনায় ছিলেন, থাকবেন।
এই মুর্হুতে উচ্চ আদালতে যত বিচারপতি আছেন তাদের মধ্যে বিচারপতি নাঈমা হায়দার সবচে বেশি ডিগ্রী অর্জনকারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন৷ এরপর অক্সফোর্ড, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলি এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের উপর একাধিক ডিগ্রী নিয়েছেন তিনি।
তার আলোচিত রায়ের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীরা অবসরের তিন বছর আগে নির্বাচন করতে পারবেন না। সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মায়ের স্বীকৃতি। পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারিকে অবসরের সুযোগ সুবিধা দিতে সরকারকে বাধ্য করা। জন্মের আগে শিশুর লিঙ্গের পরিচয় প্রকাশ না করা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্রতায় রক্ষায় আটটি নির্দেশনার রায়। অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে রায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিদের হস্তক্ষেপ বন্ধ। ২৮৫ প্রতিবন্ধীকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের রায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে বৈবাহিক অবস্থা লিখতে বাধ্য না করা। নারীর প্রতি সব ধরণের বৈষম্য বন্ধে রায়। কাবিননামায় কুমারি শব্দ বাতিল। দেশের মৌলিক আইন বাংলায় অনুবাদের নির্দেশ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে Ragging বন্ধে রায়। এমন অসংখ্য যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন বিচারপতি নাঈমা হায়দার।
তিনি ২০০৯ সালে হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান৷ ১৯৮৯ সালে জেলা আদালতে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯৩ সালে হাইকোর্ট, ২০০৪ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হন।
