অন্দ্রিতা বারখা
যখন থেকে ঘোষণা এসেছে—বিএনপি ড. ইউনূসের মন্ত্রণালয়ে থাকা আমেরিকার নাগরিক #রজার রহমান ওরফে #খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানাচ্ছে—তখন থেকেই পুরো সোশ্যাল মিডিয়া বলছে, “বিএনপি এটা কী করল!” ছি ছি ছি করতেছে।
সব দোষ বিএনপির ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে—এই ঘটনার পেছনে দুইটা বড় কারণ আছে। খুব সাধারণ, খুব স্পষ্ট। আপনার চোখের সামনেই ছিল—আপনি শুধু দেখতে পারেননি।
একটু মনে করে দেখুন।
খালেদা জিয়া যখন মারাত্মক অসুস্থ, প্রায় মৃত্যুশয্যায়—চারদিকে তখন একটাই দাবি:
তারেক জিয়াকে দেশে আসতে হবে।
চাপ বাড়তে থাকায় তারেক জিয়া বাধ্য হয়ে বলেছিলেন—
_“আমি চাইলে আসতে পারব না। আমার আসার উপরে অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমার একার হাতে আমার আসা নির্ভর করতেছে না এগুলা নির্ভর করতেছে বিভিন্ন শক্তির উপরে।”
প্রশ্ন হচ্ছে—তাকে কে বাধা দিচ্ছিল? হাসিনা তো নাই আগেই।
আর সেই বাধার রাস্তা টা ক্লিয়ার করল কে?
উত্তর খুব পরিষ্কার—দেশি-বিদেশি শক্তি। ইউরোপ ও পশ্চিমা শক্তির সরাসরি চাপ ও বাধা ছিল।
বিএনপি তখন বাধ্য হয়ে খলিলুর রহমানের মাধ্যমে সেই শক্তিগুলোর সঙ্গে নেগোসিয়েশন শুরু করে—যাতে তারেক জিয়ার দেশে ফেরা সম্ভব হয়।
এই খলিলুর রহমান বারবার গেছে আমেরিকা, লন্ডন, ভারত—বিভিন্ন শক্তির দরজায় দরজায় ঘুরেছে।
কারণ পশ্চিমা শক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল এখানে একটা “বিরাজনীতিকরণ পরিস্থিতি” তৈরি করা—যেখান থেকে তারা তাদের ডিপ স্টেট পলিসি ইমপোজ করতে পারবে। কিন্তু অচিরেই তারা বুঝতে পারে যে এখানে এইরকম করা সম্ভব না। তারপরেও তারা চেষ্টা করেছিল ইউনূস কে দিয়ে।
কিন্তু সমস্যা হলো—
ড. ইউনূস সরকার এতটাই ব্যর্থ ছিল, আর তার আশেপাশের ডানপন্থী মৌলবাদী ভাবধারার লোকজন এতটাই উশৃঙ্খল ছিল, যে পুরো বিষয়টা হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়।
ইউনূস সরকারের ছত্রছায়ায়:
_মদ ও সন্ত্রাস বাড়ে
_জঙ্গিরা ছাড়া পায়
_উগ্র শক্তিগুলো বেপরোয়া হয়ে ওঠে
ইউনূস কিছুই বুঝতে পারেননি।
কিন্তু পশ্চিমারা ধীরে ধীরে বুঝে যায়—ইউনূস দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল হবে না।
তখন তাদের সামনে বাস্তব সত্যটা পরিষ্কার হয়:
এই দেশে ক্ষমতায় আসতে পারে কেবল দুইটা দল—
আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপি।
যতই মানুষ ও অন্যান্য দল লাফালাফি করুক, বাস্তবতা এটাই।
এই দুই দলের বাইরে কোনো শক্তিশালী দল নেই—পশ্চিমারাও এটা জানে।
তাই একটাকে যেকোনোভাবে মাঠের বাইরে বের করে, আরেকটাকে তাদের পক্ষে রাখার কৌশল করতে হবে।
সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে মাঠের বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়।
অবশ্য আওয়ামী লীগকেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—তারা রাজি হয়নি।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে—
বিএনপি কেন রাজি হলো?
কারণ একটাই—তারেক জিয়া।
তারেক জিয়া যদি দেশে না ফিরতেন, তাহলে বিএনপির ভেতরেই প্রধানমন্ত্রী কে হবে—এই প্রশ্নে দল ভেঙে পড়ত।
বিএনপির ভেতরে অন্তত তিন-চারটা গ্রুপ আছে:
_সালাহউদ্দিন গ্রুপ
_মির্জা ফখরুল গ্রুপ
_আরেকটা ছোট মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপ (যাদের কার্যত কোনো মূল্য নেই)
_রিজভী গ্রুপ
এই ভাঙন ঠেকানোর একমাত্র উপায় ছিল—তারেক জিয়ার প্রত্যাবর্তন।
আর সেই প্রত্যাবর্তনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে খলিলুর রহমান।
তিনি একে একে সব বাধা সরিয়ে দিয়েছেন। এটাতে হেল্প করেছে পশ্চিমা শক্তি।
এখন লক্ষ্য করুন—
নির্বাচনের ঠিক আগের দিন ৫৩ হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয় আমেরিকার সাথে। এবং ইউরোপিয় কিছু দেশের সাথেও চুক্তি হয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকার।
রাজনীতির ন্যূনতম জ্ঞান থাকলেই বোঝার কথা—
একটা অনির্বাচিত সরকার এত বড় চুক্তি করার ক্ষমতা রাখে না।
তাহলে তারা করল কীভাবে?
কারণ বিএনপি বাধা দেয়নি।
বরং সমর্থন ছিল।
কারণ বিএনপি তখন তাদের হাতে বন্দি ছিল। কারণ বিএনপির সব থেকে বড় উপকার করেছে তারা তারা বাধা দেওয়ার নৈতিকতা রাখে না। আর জামাত তো আগে থেকেই গদগদো হয়ে রাজি হয়েছিল কিন্তু তারা শক্তি অর্জন করতে পারে নাই তাদের সকল শক্তি ক্ষয় করেছে আওয়ামী লীগ কে নিধন করতে গিয়ে।
তারপরও পশ্চিমা শক্তি বিএনপিকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেনি।
তাই তারা তাদের একজন প্রতিনিধি শক্তিকে এই সরকারের মন্ত্রণালয়ের ভেতরে ঢুকিয়ে রাখতে চাই, সেই তাপ থেকে বিএনপি সরাসরি খলিলুর রহমানকে সবথেকে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে দিচ্ছে এই খলিলুর কিন্তু কোন নির্বাচন করে নাই কোন জনপ্রতিনিধি না। একমাত্র আমেরিকার প্রতিনিধি। এটা আমার কথা না এটা বিএনপি’র নেতা সালাউদ্দিনের কথা।
অন্যদিকে এটাও হতে পারে—
বিএনপি বা তারেক জিয়া কৃতজ্ঞতা স্বরূপ খলিলুর রহমানকে সেই মন্ত্রণালয় দিয়েছে, যেখান থেকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক ও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এবং পশ্চিমাদেশ যারা তারেক জিয়ার রাস্তা কিলিয়ার করে দিয়েছে তাদেরকে খুশি করানো যায়।
এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
আরেকটা বিষয় হচ্ছে পশ্চিমা দেশের সাথে যেসব চুক্তি এই ধরনের সকল চুক্তি ও পরিকল্পনার ব্যাপারে:
_জামায়াতে ইসলামী জানে
_বিএনপি জানে
_এনসিপি জানে
জানতেন না শুধু আপনি।
এখন জানলেন—তাই অবাক হচ্ছেন। এবং পিঠ চাপাচ্ছেন।
পশ্চিমা শক্তিগুলো উনার মাধ্যমে অসমাপ্ত সব চুক্তিকে বৈধতা দেওয়া হবে। বিএনপিকে জিয়ারতে চাপে রাখতে পারে অথবা বিএনপির যেন এদিক-ওদিক না করতে পারে এজন্য সার্বক্ষণিক বিএনপিকে চোখে চোখে রাখার জন্যই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সরাসরি পশ্চিমা থেকে একেবারে লর্ড মাউন্টব্যাটেন এর মত।
কারণ এই চুক্তিগুলো হালকা কিছু না—
এমনভাবে করা হয়েছে যেন ৫০ বছরের মধ্যে কেউ ভাঙতে না পারে।
সেজন্য নির্বাচিত সরকারের সিগনেচার দরকার ছিল।
এবার সেটা হয়ে যাবে।
এর সঙ্গে যুক্ত আছে চট্টগ্রাম পাহাড়ের ওপারে
বার্মা অ্যাক্টের আওতায় নতুন রাষ্ট্র গঠনের দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যান।
এই খলিলুর রহমান শুরু থেকেই এই বিষয়ে কাজ করছে।
বিএনপি, জামাত—সবাই জানে।
পশ্চিমা দেশ প্রথমে ভেবেছিল ইউনূস দিয়ে কাজ হবে।
কিন্তু তারা ভয়াবহ রকম দুর্বল প্রমাণিত হয়।
দেশ সামলাতে পারেনি,
বিদেশি বন্ধুদের স্বার্থও রক্ষা করতে পারেনি।
কারণ তাদের পুরো শক্তি খরচ হয়েছে আওয়ামী লীগ নিধনে। এবং নারীদেরকে গালাগালি করা শরিয়া আইন কায়েম করা এসব উদ্ভট অলীক স্বপ্ন দেখে তাদের সকল শক্তি ক্ষয় করছে।
এই কারণে পশ্চিমা শক্তি শেষ পর্যন্ত জামাত-এনসিপি বাদ দিয়ে বিএনপিকে বেছে নেয়।
কারণ ইসলামিক গোষ্ঠীগুলো এখনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারেনি।
অবশ্য এখনো তাদের কে হাতে রাখছে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকে রুখে দিতে। আওয়ামীলিগ যেন আর মাঠে দাঁড়াতে না পারে—
এই ফ্যাসিবাদ টাইপ ন্যারেটিভটা সারাক্ষণ চালানো হচ্ছে।
এগুলো আওয়ামী লীগ রুখে দেওয়ার মাধ্যমে—
পশ্চিমা স্বার্থ সার্ভ করার জন্য। কারণ পশ্চিমা শক্তি জানে আবার আওয়ামী লীগ সরকার যদি আসে তাহলে এসব চুক্তিপুক্তি একেবারে বঙ্গোপসাগরে নিয়ে ফেলে দিবে। তখন তাদের দীর্ঘমেয়াদি সকল প্রাণ ভেস্তে চলে যাবে।
তাই সব মিলিয়ে প্ল্যান একটাই—
বিএনপিকে ক্ষমতায় এনে সব চুক্তিকে পার্মানেন্ট করা।
এই প্ল্যান বহু আগেই তৈরি।
আসল কথা হচ্ছে—
তারেক জিয়াকে দেশে ফেরানোর পথে যে সব বাধা ছিল,
সেগুলো একে একে দূর করে খলিলুর রহমান বিএনপির সবচেয়ে বড় উপকার করেছে। এবং খলিলুর রহমান পশ্চিমা এজেন্ট হিসাবে আছে। তারেক জিয়ার সকল বাধা যেহেতু পশ্চিমা শক্তি এবং খলিলুর রহমান সরিয়ে দিয়েছে তাই
এই কারণেই বিএনপি তাকে এই মন্ত্রণালয় দিতে বাধ্য।
দেখতে থাকুন—
আরো বহু চুক্তি হবে।
এবার আর কেউ বলতে পারবে না—
“এটা অনির্বাচিত সরকার করেছে।”
কারণ এখন সাইন করছে নির্বাচিত সরকার।
শেষ কথা:
ইউনুস জামাত এন সি পি ছিল ডিপ স্টেট ওয়ার্মিং আপ। এখন হবে আসল খেলা শুরু। ওইটা ছিল ফার্স্ট ফেজ। দেখতে থাকেন রিজওয়ানাও ভালো পুরস্কার পাবে। উচ্চকক্ষ যখন গঠন হবে না তখন একটু চোখ কান খোলা রাখবেন আপনি নিজেই তখন দেখতে পারবেন যদি একটু ভালোমতো অবজার্ভ করেন।
ধন্যবাদ 🙏
—
✍️_____বারখার ডাইরি (পৃষ্ঠা ২৭২৫)
