ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: নির্বাসিত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সকালে দলের ওয়ার্কিং কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে নেতাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—মানসিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিন, সবাইকে দেশে ফিরতে হবে এবং রাজনৈতিক ময়দানে নামতে হবে। এটি ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকটি দলের এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনটি ছিল “প্রহসনমাত্র”। তিনি দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দ্বিমুখী আচরণের কটাক্ষ করে বলেন, কেউ কেউ বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে “ভালো নির্বাচন” বলেছেন, কিন্তু নিজ দেশে ফিরে রিপোর্টে “সাজানো নাটক” বলেছেন। “এমন দু’মুখো লোকেদের ভরসায় বসে থাকা যাবে না।” তিনি নির্বাচনী ফলাফলের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে এবং ভোট বয়কটের আহ্বানে জনগণের “তুমুল সাড়া” তুলে ধরতে নেতাদের নির্দেশ দেন।
হাসিনা দাবি করেন, তার ভোট বয়কটের ডাকে মানুষ সাড়া দিয়েছে, এবং ভোটের হার ৬০ শতাংশ দেখানো অসম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, “এবার তো ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকেই ব্যালট বাক্স বোঝাই করা হয়েছে।”
আলোচনায় নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ উঠলে হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর সন্ত্রাস দমন আইনে নিষেধাজ্ঞা অবৈধ—দুটি কারণে: এক, দল কোনো অপরাধ করেনি; দুই, মুহাম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার অবৈধ ছিল। তিনি বিএনপি সরকারের নাম না নিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকার এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।
“যদি বর্তমান সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করে, তাহলে আমরা আমাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেব, কর্মসূচি ঘোষণা করব।”
বৈঠকে নেতারা নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সভায় ওয়ার্কিং কমিটির সকল সদস্য বক্তব্য দেন; কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাও (যারা কমিটির সদস্য নন বক্তব্য রাখেন। হাসিনার কণ্ঠে পরিচিত আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে বলে উপস্থিত নেতাদের ধারণা। কেউ কেউ মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইতিবাচক বার্তা পেয়ে থাকতে পারেন তিনি।
উল্লেখ্য, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, সাইফুল আলম নাদেল, মির্জা আজম, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।
বিগত কয়েকদিনে দলের একাধিক অফিস খোলা হয়েছে এবং কিছু কর্মসূচি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শেখ হাসিনার এই নির্দেশকে অনেকে পদ্মাপাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সূচনা হিসেবে দেখছেন। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এখন থেকে আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
