ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে মিল রেখে প্রায় একই সময়ে ইসরায়েলে বিপুলসংখ্যক রকেট ছুড়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা এ কথা জানিয়েছে।
লেবানন থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি জানান, কয়েক মিনিটের মধ্যে উত্তর ইসরায়েলে অন্তত তিন দফায় রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে একযোগে এই আক্রমণ চালানো হয়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে অন্তত ১০০টি রকেট ছোড়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আল-জাজিরার প্রতিনিধি আরও জানান, উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা ও হাইফা শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সেখানে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে।
বৈরুতে ৫০টি বহুতল ভবনে হামলা ইসরায়েলের
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আকাশ ও সমুদ্রপথ থেকে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় শহরটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী আরও বলেছে, বৈরুত এলাকার প্রায় ৭০টি স্থানে এখন পর্যন্ত আঘাত হানা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০টি বহুতল ভবন রয়েছে।
লেবাননে ইতিমধ্যে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে ৯১ শিশু রয়েছে। তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ময়ূরি নারি থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার থাই জাহাজটি পশ্চিম ভারতের কাণ্ডালা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—আমরা এটিকে গভীরভাবে দুঃখজনক মনে করি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই সংঘাতের আগের কয়েকটি পর্যায়ে একাধিক হামলায় ভারতীয় নাগরিকসহ অনেক মূল্যবান জীবন হারিয়ে গেছে। এখন এই হামলার তীব্রতা ও ভয়াবহতা কেবল বেড়ে চলেছে বলে মনে হচ্ছে।’
২০ নাবিককে উদ্ধার ওমানের নৌবাহিনীর
ওমানের নৌবাহিনী হামলার শিকার থাই জাহাজটি থেকে ২০ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল (২৪ কিলোমিটার) দূরে জাহাজটি হামলার শিকার হয়েছে। ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।উদ্ধার হওয়া সবাই থাইল্যান্ডের নাগরিক। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ওমান সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, থাই পতাকাবাহী ‘ময়ূরি নারি’ নামের পণ্যবাহী জাহাজটি হামলার শিকার হওয়ার পর সেটিতে আগুন ধরে যায়। ২০ জনকে উদ্ধার করা হলেও ৩ জন নাবিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্থানীয় সময় বুধবার সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন— ইরান যুদ্ধ শেষ হতে আর কী প্রয়োজন? জবাবে তিনি বলেন, ‘একই ধারা অব্যাহত থাকবে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।’
ট্রাম্প দাবি করেন,‘তারা (ইরান) তাদের নৌবাহিনী হারিয়েছে। তাদের বিমানবাহিনীও শেষ। তাদের কোনো বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা বা রাডার অবশিষ্ট নেই। তাদের নেতারাও আর নেই। চাইলে আমরা আরও ভয়াবহ কিছু করতে পারি।’
ট্রাম্প বলেন, ‘ইতিহাসে যেকোনো দেশের তুলনায় আমরা ইরানকে সবচেয়ে কঠিন আঘাত করেছি। তবে আমরা এখনো কাজ শেষ করিনি।’সূত্র: বিবিসি
ওমানের সালালাহ বন্দরে জ্বালানি ডিপোর ট্যাংকে হামলার জন্য ইরানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আল বুদাইওয়ি।
জাসেম মোহামেদ বলেন, ওমানের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় জিসিসি ঐক্যবদ্ধভাবে দেশটির পাশে আছে।
এর আগে আজ বুধবার ওমান কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে, সালালাহ বন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন হামলা হয়েছে। কিছু ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও কয়েকটি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। ওমান জানিয়েছে, হামলায় জ্বালানি ট্যাংকের ক্ষতি হলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সূত্র: আল–জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানের বন্দরে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর বন্দরে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। এর আগে আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বেসামরিক নাগরিকদের হরমুজ প্রণালির সব বন্দর এলাকা ‘অবিলম্বে’ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ইরানের এ পাল্টা হুমকি এল।
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র বলেন, ইরানের বন্দরে হামলা চালানো হলে এই অঞ্চলের অন্যান্য বন্দরগুলোও ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরানের বন্দর শ্রমিক, প্রশাসনিক কর্মী এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ক্রুদের নিজেদের নৌবাহিনীর জাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম এড়িয়ে চলা উচিত।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ইরানের প্রায় ৬০টি নৌযান ডুবিয়ে বা ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তারা ইরানের নৌশক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিয়েছে বলে দাবি করছে।সূত্র: আল-জাজিরা
ইসরায়েল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন। এর ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটল।
আজ বুধবার স্পেনের সরকারি গেজেটে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তেল আবিবে স্পেনের দূতাবাস এখন থেকে একজন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অধীনে পরিচালিত হবে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ইসরায়েল ও স্পেনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তখনো নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে এনেছিল স্পেন। তখন গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধনের নিন্দা জানিয়ে কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছিলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল।
সূত্র: আল-জাজিরা
