আশরাফুল আলম খোকন
“আমার নিজের কানে শোনা, চোখে দেখা! বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার উপদেষ্টা, প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে যখন স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয় তখন কিছু মন্ত্রী এবং আমলা এর বিরোধিতা করেছিলেন।
তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, দেশের সংস্কৃতিতে ওনার অনেক অবদান, পুরস্কার ওনার প্রাপ্য।
গাজী সাহেব শুধু স্বাধীনতা পুরস্কার নয়, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও ঐসময় পেয়েছিলেন।
*অথচ ওনার মেয়েকেও টিভিতে বলতে শুনেছি, তারা নাকি ১৫ বছর বঞ্চিত ছিলেন। *
কট্টর আওয়ামী বিরোধী হিসাবে পরিচিত শাহনাজ রহমতুল্লাহ মারা যাবার পর শোক বিবৃতি দিতে গড়িমসি করায় আমি এবং প্রেস সচিব চরম বকা খেয়েছিলাম।
প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, উনি কোন আদর্শের এটা মুখ্য না, বাংলা গানে ওনার অনেক অবদান।
এই কথাগুলো লেখার কারণ, সম্প্রতি সংগীত শিল্পী ন্যান্সীর একটা স্ট্যাটাস। তিনি নাকি ১৫ বছর পরাধীন ছিলেন।
*অথচ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার , তিনি ওই সময়েই পেয়েছিলেন।*
নিষিদ্ধ থাকলে এসব কিভাবে পেলেন?
আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার কট্টর বিরোধী হিসাবে পরিচিত অভিনেতা আবুল হায়াতকেও শেখ হাসিনা স্বাধীনতা পুরস্কার দিয়েছেন। তখনো অনেকে এর বিরোধিতা করেছিলো।
জুলাই-আগস্টে লাল ঝান্ডা উঠানো এরকম অনেককেই চিনি যারা আওয়ামী বিরোধী, কিন্তু এই সময়ে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।
*তরুণদের মধ্যে স্বীকৃত বিএনপি সমর্থক, ক্লোজআপের মুহিনকেও দেখলাম সর্বশেষ জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার পেতে। *
৭৫ এর ১৫ আগস্ট বিটিভি দখল করা পরিচালক আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার জন্যও শেখ হাসিনা ত্রাণতহবিল থেকে বিপুল পরিমান টাকা দিয়েছেন।
এমন কি তিনি থাইল্যান্ডে নিযুক্ত তৎকালীন রাষ্ট্রদূতকেও ফোন করে বলে দিয়েছিলেন সবসময় চিকিৎসার খোঁজ খবর রাখতে।
বিএনপি নেতা অভিনেতা খলিলুল্লাহ খান ( খলিল )কে তিনি নিজ উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য বিশ লাখ টাকার চেক পাঠিয়েছিলেন।
ভিন্নমতের এমন আরো অনেকের নাম বলতে পারবো, যারা আবেদন করেননি, কিন্তু পত্রিকাতে অসুস্থতার খবর পড়ে শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।
*জুলাই আগস্টের আন্দোলনে এমন একজন অভিনেতার বিজয় মিছিলের ছবিও দেখেছি, যাকে শেখ হাসিনা তাঁর জীবন ধারণের জন্য ত্রাণতহবিল থেকে অনুদান দিয়েছেন।*
তিনিও বিএনপির একটি সংগঠনের নেতা ছিলেন।
*গণভবনে শেখ হাসিনার নিজস্ব দাওয়াতে আসা অনেককেই এই আন্দোলনে দেখেছি।*
এবং তথ্যমন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা থেকে আসা দাওয়াতের তালিকাটা তিনি নিজে দেখে সিলেক্ট করে দিতেন।
কেউ যদি বলতো, ওরা অন্য দল সমর্থক, তিনি উল্টো ধমক দিতেন।
অবাক হবেন, *নেত্রীর নামে ছবি বানানো পরিচালককেও আন্দোলনের প্রথম সারিতে দেখেছি।*
শুনেছিলাম ওনার চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা টাকা দিয়েছিলেন। ওনার সম্মান রক্ষার্থে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দিয়েছিলেন, যাতে সরকারি রেকর্ডে নাম না থাকে।
আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেবকে তো চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছিলেন।
সেই মির্জা ফখরুল ইসলাম নিজ মুখে গর্ব করে বললেন, ৫ই আগস্ট (শেখ হাসিনাকে হ ত্যা করার জন্য) গণভবনে আক্রমণ করার নির্দেশ উনি দিয়েছিলেন।
এখনও মির্জা ফখরুল বলে চলেছেন, আওয়ামী লীগের উপর ইউনূসের দেয়া নিষেধাজ্ঞা বিএনপি প্রত্যাহার করবে না!
এতো বড় একটি লেখা দেয়ার কারণ, যারা বলেন, ১৫ বছর স্বাধীন ছিলেন না, তাদেরকে শেখ হাসিনার ভালোবাসার একটি নমুনা দেয়ার জন্য।
অনেকেই হয়তো বলবেন, তিনি সরকারি তহবিল থেকে অনুদান দিয়েছেন।
অবশ্যই সরকারি তহবিল, কিন্তু এটা কয়জন সরকার প্রধান করেছেন?
ভিন্নমতের মানুষদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া, তাদের হাতে জাতীয় পুরস্কারের মত স্বীকৃতি তুলে দেয়া! এমন একটা উদাহরণ দেখান।
