৭ এপ্রিল ২০২৬। তেহরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর হুমকি এবং পাল্টা সামরিক উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান যদি সমঝোতায় না আসে, তাহলে “আজ রাতেই পুরো একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।” ওয়াশিংটন সময় রাত ৮টা পর্যন্ত দেওয়া এই সময়সীমাকে তিনি চূড়ান্ত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ইরানে একাধিক বিমান হামলায় অন্তত দুটি সেতু ও একটি রেলস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এসব হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কেউই স্বীকার করেনি, তবে ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে ঘটনাগুলো নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সময়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ তরুণদের বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় মানবঢাল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।
সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ, যার মাধ্যমে শান্তিকালে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ইরান এই প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি প্রণালীটি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত না করে, তাহলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, এমন হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত করবে এবং আক্রমণের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
এদিকে, ইরান ইসরায়েল ও সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। সংঘর্ষের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে ইরানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৯০০ জন নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও সরকার সাম্প্রতিক হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি।
কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত। পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও ইরান সর্বশেষ মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রশ্নটি তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্র আংশিকভাবে তেলখাতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও অধরা।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এসব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে তিনি “মোটেও উদ্বিগ্ন নন।”
ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশটিকে কার্যত অন্ধকার যুগে ঠেলে দিতে পারে—এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।
বিশ্বজুড়ে নজর এখন একটাই—নির্ধারিত সময়সীমার আগে কোনো সমঝোতা হবে, নাকি নতুন এক ভয়াবহ সামরিক অভিযানের দিকে এগোবে এই সংঘাত।
