হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সবে বাইরে পা রেখেছিলেন মাগুরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কাজী সোনিয়া সুলতানা। কিন্তু মুক্তির আনন্দ স্থায়ী হলো না এক মুহূর্তও। জেলগেটের বাইরে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় আটক করে নিয়ে যায়।
৮ই মে, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মাগুরা জেলা কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে এ নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে। আকস্মিক এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে জেলগেট এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়, এবং বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে।
কাজী সোনিয়া সুলতানা মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নের ইছাখাদা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত জামিল হোসেনের কন্যা।
দীর্ঘদিন ধরে মাগুরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা এই নেত্রী সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
জানা গেছে, গত ৫ই মার্চ মাগুরা শহরের জামরুলতলা এলাকায় মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের উদ্বোধন ও দলীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন কাজী সোনিয়া সুলতানা।
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরদিনই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা মাগুরা সদর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সোনিয়া সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ৭ই মে, বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত অর্থাৎ হাইকোর্ট থেকে ওই মামলায় জামিন লাভ করেন তিনি। এরপর শুক্রবার সকালে কারামুক্তির যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কারাগারের মূল ফটক পেরোনোর মুহূর্তেই — অর্থাৎ কার্যত মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার আগেই — আগে থেকে সেখানে অপেক্ষায় থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেন।
এই পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নতুন মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী প্রশ্ন ও বিতর্কের সূত্রপাত হয়। হাইকোর্টের মতো উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরপরই জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশিকুর রহমান জানান, একটি নাশকতার মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে কাজী সোনিয়া সুলতানাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ওই মামলার বিস্তারিত তথ্য তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেননি।
হাইকোর্টের জামিনের আদেশ কার্যকর হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেপ্তারের এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এই গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক হয়রানি ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর অপচেষ্টা বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
