চীনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটিই ছিল তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর।
বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি আমেরিকা ও চীনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য সম্মেলন বড় কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের এই বৈঠক থেকে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার মতো তেমন কোনো চুক্তি না আসায় শুক্রবার (১৫ মে) চীনের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে।
বৈঠক শেষে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশ কিছু কৃষিপণ্য বিক্রির চুক্তিতে সম্মত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য সচল রাখার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, উভয় পক্ষ মিলে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য কেনাবেচার জন্য তালিকা তৈরি করবে।
তবে এই চুক্তিগুলোর বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, চীনের কাছে এনভিডিয়ার উন্নত ‘এইচ২০০ এআই চিপ’ বিক্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়নি।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম আমেরিকার কাছ থেকে ২০০টি বোয়িং বাণিজ্যিক জেট বিমান কেনার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, চীন অন্তত ৫০০টি বিমান কিনবে।
প্রত্যাশার চেয়ে এই সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জ্যেষ্ঠ চীনা বিশ্লেষক চিম লি মনে করেন, এই শীর্ষ সম্মেলনটি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে আশ্বস্তকারী হলেও, ব্যবসার আসল খতিয়ানের দিক থেকে বেশ হতাশাজনক। বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মেলনের একমাত্র বড় সাফল্য হলো গত অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে যে ভঙ্গুর ‘বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি হয়েছিল, তা আপাতত বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
