রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় নির্মম ধর্ষণ এবং হামে শিশু হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী শিল্পী-জনতার এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দিনভর চলা এই সমাবেশটি সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক গণজাগরণে রূপ নেয়।
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এই প্রতিবাদ সভায় সংহতি জানাতে রাজপথে নেমে আসেন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা। সংগীত, চিত্রকলা, আবৃত্তি, নাটক, চলচ্চিত্র, নৃত্য ও সাহিত্যসহ সর্বস্তরের শিল্পী সমাজ একযোগে এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশস্থলে শিল্পীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী গান, কবিতা আবৃত্তি এবং পথনাটকের মাধ্যমে দেশের বর্তমান বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। চিত্রশিল্পীরা রাজপথেই ক্যানভাসে এঁকে তুলেন প্রতিবাদের ভাষা।
শুধু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরাই নন, এই সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন সমাজের নানা পেশার সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষ। ব্যানার, ফেস্টুন আর প্ল্যাকার্ড হাতে হাজারো মানুষের কণ্ঠে মুখরিত ছিল ধানমন্ডি এলাকা। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে চারপাশ।
সমাবেশে আসা সাধারণ এক নাগরিক বলেন, এই বর্বরতা আর সহ্য করা যায় না। আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য, একটি সুস্থ সমাজের জন্য আজ সবাইকে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে।
সমাবেশ শেষে বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ আর অন্যায় ও নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করবে না। শিল্পী ও জনতার এই অভূতপূর্ব মিলনমেলা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মাঝে এক নতুন জাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের এই যে স্বতঃস্ফূর্ত নবজাগরণ, তা দমন করার সাধ্য কারো নেই।
বক্তারা অবিলম্বে ধর্ষণ ও শিশু হত্যার সাথে জড়িত খুনি ও ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে সমাবেশটি সমাপ্ত হয়।
