ঢাকা, মে ২৫, ২০২৬: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছিলেন লাখো তরুণ-যুবকের আইকন এবং জাতীয় নায়ক।
আন্দোলনকারীরা তাঁকে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় নির্বাচিত করেছিলেন। তাঁর প্রেস উইংয়ের সক্রিয় ন্যারেশন ও সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন তাঁকে ‘তারুণ্যের পথদ্রষ্টা’, ‘সামাজিক ব্যবসার জনক’ এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত করেছিল। ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লাখ লাখ পজিটিভ রিয়াকশন ছিল।
কিন্তু ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় চিত্র পুরোপুরি উল্টে গেছে।
এখনও তারুণ্য কে স্বপ্ন দেখানো বাংলাদেশ ২.০ এর রুপকার ইউনূসের সকল পোস্ট আর ভিডিওতে হাহা রিয়াকশনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি এতো খারাপ হয়েছে যে, যেই ইউনূসের পোস্টে লাখ লাখ মানুষের রিয়াকশন আর কমেন্ট হতো, সেখানে এখন রিয়াকশন নেমে এসেছে ৫-৭ হাজারে, যার মধ্যে ৯০ ভাগ রিয়াকশন নেগেটিভ বা হাহা রিয়াকশন। আর পোস্টের কমেন্টে সেকশনে থাকে বেশীরভাগ হামে শিশু মৃত্যুর জন্য ইউনূসকে দায়ী করে বিষেদাগার।
উদ্ভুত এই নেগেটিভ রিয়াকশন ফ্লাডিং এ ড ইউনূসের আন্তর্জাতিক ইমেইজের কথা চিন্তা করে বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজসহ ইউনূস সেন্টারের সকল পেজে রিয়াকশন সংখ্যা দেখানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কমেন্ট অপশনও নিষ্ক্রিয় করে দেয়া হয়েছে।
জনমনে ড ইউনূসের প্রতি ঘৃণা ও বিবমিষা এতটাই তীব্র হয়েছে যে তাঁর পেজগুলোতে ‘কমেন্ট-বন্ধ’ করে রাখতে হয়েছে।
হামের টিকা সংকট: সবচেয়ে বড় কারণ
জনরোষের প্রধান কারণ হলো ২০২৬ সালের ভয়াবহ হাম (মিজলস) আউটব্রেক। ইউনূস সরকারের আমলে (২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে) ইউনিসেফ ও গাভির মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয় বন্ধ করে ওপেন টেন্ডার পদ্ধতিতে স্থানান্তর করা হয়। ইউনিসেফের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এই পরিবর্তনের ফলে ভ্যাকসিন সংকট তৈরি হয়। ফলে শিশুদের টিকাদানের হার নেমে আসে ৫৯ শতাংশে।এর ফলে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে। ৭০ হাজারের বেশি সন্দেহজনক কেস, হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত এবং থেকে ৫০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এই সংকটকে কেন্দ্র করে ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছে আদালতে।
সংস্কারের নামে অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির অভিযোগ
ইউনূস আমলে ‘সংস্কারের গালভরা’ বক্তব্য দিয়ে হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু ফলাফল ‘অশ্বডিম্ব প্রসব’। তাঁর উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও কোটি কোটি টাকার অনিয়মের শত শত অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। এসব অভিযোগ জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।জুলাই আন্দোলনের নায়ক থেকে মাত্র কয়েক মাসে জনরোষের প্রতীকে পরিণত হওয়া ড. ইউনূসের এই পতন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক নতুন অধ্যায় তুলে ধরেছে। জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার উদাহরণ হয়ে রইল এই ঘটনা।
