সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এবং সরকার উৎখাতের সহিংসতাকে বৈধতা দিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের দপ্তর (OHCHR) যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাকে ‘ভুয়া’, ‘বানোয়াট’ এবং ‘সাজানো’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি
চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনার আইনজীবী। ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনি
প্রতিষ্ঠান ‘ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স’-এর আইনজীবী স্টিভেন পোলস কেসি সরাসরি জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার ভলকার তুর্ককে এক কড়া আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সংবাদের মূল হাইলাইটস:
– #ভলকার তুর্ককে আইনি নোটিশ: জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারকে সরাসরি আইনি
নোটিশ পাঠিয়ে রিপোর্ট প্রত্যাহারের দাবি।
– #১৪০০ নিহতের সংখ্যা ‘মিথ্যা’: নিহতের সংখ্যা অতিরঞ্জিত ও বানোয়াট; বজ্রপাত ও
হার্ট অ্যাটাকের মৃত্যুও তালিকায় ঢোকানোর অভিযোগ।
– #ইউনূস সরকারের ‘ফরমায়েশি’ রিপোর্ট: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আমন্ত্রণে ও তাদের
দেওয়া তথ্যে ‘সাজানো’ প্রতিবেদন তৈরির দাবি।
– #রেজিম চেঞ্জে জাতিসংঘের ভূমিকা: শান্তিরক্ষী মিশনের হুমকি দিয়ে সেনাবাহিনী’কে
নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে সরকার পতন নিশ্চিত করার অভিযোগ।
– #রিপোর্ট প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম: জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় অবিলম্বে
জনসমক্ষে রিপোর্ট প্রত্যাহারের আহ্বান।
বিস্তারিত প্রতিবেদন:
সম্প্রতি সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরীর এক বিশেষ বিশ্লেষণে এই আইনি
লড়াইয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ১২ই ফেব্রুয়ারি
২০২৫ তারিখে প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি ছিল মূলত একটি রাজনৈতিক
প্রেসক্রিপশন। জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় ১৪০০ জন নিহত হওয়ার যে কাল্পনিক সংখ্যা জাতিসংঘ প্রকাশ করেছে, তাকে ‘ফোলানো-ফাঁপানো’ ও ‘উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
তথ্যের চরম গরমিল ও জালিয়াতি: শেখ হাসিনার আইনজীবীর দাবি, যেখানে অন্তর্বর্তী
সরকারের গেজেটে নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ জন বলা হয়েছে, সেখানে জাতিসংঘ কোন জাদুবলে ১৪০০ সংখ্যাটি পেল? অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বজ্রপাতে মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা, হার্ট অ্যাটাক এমনকি বছরখানেক আগে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের নামও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি মূলত শেখ হাসিনা সরকারকে ‘খুনি’ হিসেবে বিশ্ব দরবারে চিহ্নিত করার একটি পরিকল্পিত নীল নকশা।
ড. ইউনূসের বক্তব্যের সূত্র ধরে চ্যালেঞ্জ: আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ড. ইউনূস নিজেই আন্তর্জাতিক ফোরামে স্বীকার করেছেন যে এই আন্দোলন কোনো স্বতঃস্ফূর্ত বিষয় ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ‘পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল অপারেশন’ (Planned and Disciplined Operation)। ড. ইউনূসের এই স্বীকারোক্তিই প্রমাণ করে যে, একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকার উৎখাত করা হয়েছে এবং জাতিসংঘ সেই ষড়যন্ত্রের সাফাই গাইতে এই ‘ফরমায়েশি’ রিপোর্ট তৈরি করেছে।
ভলকার তুর্কের বিতর্কিত ভূমিকা: সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগটি আনা হয়েছে খোদ ভলকার তুর্কের বিরুদ্ধে। বিবিসির ‘হার্ড টক’ অনুষ্ঠানে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, সেনাবাহিনী যাতে শেখ হাসিনা সরকারকে সহায়তা না করে, সেজন্য তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, জাতিসংঘ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে সরাসরি ‘রেজিম চেঞ্জ’
বা ক্ষমতা পরিবর্তনের খেলায় মেতেছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও ভবিষ্যৎ লড়াই: শেখ হাসিনার আইনজীবী স্পষ্ট করে
দিয়েছেন, এই ভুয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের মতো একটি বিশ্ব সংস্থা যখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ‘ফরমায়েশি’ তথ্য দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করে, তখন তার বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে গিয়ে ঠেকে।
প্রতিবেদনের শেষে দাবি করা হয়েছে, জাতিসংঘের উচিত তাদের এই ত্রুটিপূর্ণ ও পক্ষপাতদুষ্ট রিপোর্টটি অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রত্যাহার করা এবং প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা। অন্যথায়, এই ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত যেকোনো
বিচারিক প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মহলে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে।
এই আইনি চ্যালেঞ্জের পর এখন বিশ্ববাসীর নজর জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের দিকে—তারা
কি তাদের ভুলের সংশোধন করবে, নাকি একটি বিশেষ মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নকেই প্রাধান্য দেবে?
