বিশেষ প্রতিবেদন
ড. ইউনুস দেশে ফিরলে এয়ারপোর্টে এখন কোনো টোকাইও যাবে না। দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষই এখন ঘৃণা করেন প্রফেসর ইউনূসকে!
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতায় এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক ধস নেমেছে। ড. ইউনুস দেশে ফিরলে এয়ারপোর্টে এখন কোনো টোকাইও যাবে।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ ২১ মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর রেখে যাওয়া প্রশাসনের নানা ব্যর্থতা, আমেরিকার সাথে করা বিতর্কিত চুক্তি এবং সাম্প্রতিক নানা কেলেঙ্কারির জেরে দেশের সিংহভাগ মানুষ তাঁর ওপর চরম ক্ষুব্ধ। সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের রেকর্ডসংখ্যক ৯৭ শতাংশ মানুষই এখন ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তীব্রভাবে ঘৃণা করেন।
ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে এবং গত ২৭ মে ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে তাঁর অতি গোপনে দেশত্যাগের খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই এই জরিপের পরিসংখ্যানটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক মেগা বোমার মতো আঘাত হেনেছে।
যেসব কারণে ৯৭% মানুষের মনে তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভ
জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের সিংহভাগই ড. ইউনূসের তৎকালীন প্রশাসনের প্রতি তাদের তীব্র অনাস্থা ও ঘৃণার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল বিষয়কে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন:
১. হামের টিকা না কেনায় শিশুদের অকাল মৃত্যু: ইউনূস প্রশাসনের সবচেয়ে বড় এবং অমার্জনীয় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশের স্বাস্থ্য খাতের চরম বিপর্যয়কে। যথাসময়ে হামের প্রতিষেধক টিকা ক্রয় ও সরবরাহ না করার কারণে দেশজুড়ে শত শত নিষ্পাপ শিশুর অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দেশের ইতিহাসে এই নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়কে সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না, যা ড. ইউনূসের প্রতি গণ-ঘৃণার অন্যতম প্রধান কারণ।
২. আমেরিকার সাথে বিতর্কিত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর: নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক স্বার্থকে উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তড়িঘড়ি করে করা রহস্যময় বাণিজ্যচুক্তিটি নিয়ে দেশের সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষ এক ধরণের ‘জাতীয় বিশ্বাসভঙ্গ’ হিসেবে দেখছেন।
৩. ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বিতর্ক ও তথ্য ফাঁস: সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের ধারাবাহিক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস এবং প্রশাসনের ভেতরে গড়ে ওঠা ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর গোপন ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র যত সামনে আসছে, ড. ইউনূসের নৈতিক অবস্থান তত বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। চব্বিশের আন্দোলনের দুই সহযোদ্ধা সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের মধ্যকার সাম্প্রতিক কাদা-ছোড়াছুড়িও প্রমাণ করেছে যে পর্দার আড়ালে সুবিধার এক বিশাল ভাগাভাগি চলেছে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে জরিপের গুরুত্ব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধানের বিদায়ের পর এত দ্রুত এবং এত বড় পরিসরে জনপ্রিয়তার ধস নামার নজির নেই বললেই চলে। আন্দোলনের পর যে আশার আলো নিয়ে মানুষ বুক বেঁধেছিল, হামে শিশু মৃত্যুর মতো ঘটনা এবং পর্দার আড়ালের ‘ডিপ স্টেট’-এর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সেই মোহভঙ্গ হয়েছে। আর সেই তীব্র ক্ষোভ ও হতাশারই এক চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে এই ৯৭ শতাংশের প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে।
এই জরিপের ফলাফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া মাত্রই ফেসবুকে কমেন্ট এবং শেয়ারের গতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ নেটিজেনরা বলছেন, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে দেশের মানুষ এখন আর কোনো ছদ্মবেশী শাসন মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।
