আলমগীর শাহরিয়ার
তিন দিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে ট্যাগ করে একটা লেখা পোস্ট করেছিলাম। Rumeen Farhana লেখাটির যেন মান রেখেছেন। প্রতিবাদমুখর হয়েছেন। ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদের কন্যা রুমিন ফারহানার রক্তে ও অস্তিত্বে প্রগতিশীল রাজনীতি ও সংস্কৃতির বীজ রোপিত। তিনি স্বতন্ত্র একজন এমপি হিসেবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নামে সিনেমাটি প্রদর্শনীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেছেন। ধর্মান্ধ ও উগ্রবাদীরা নাখোশ হবে জেনেও তিনি এই ঝুঁকি নিয়েছেন। তাঁর এই সাহসের তারিফ করতে হয় এবং যথারীতি ধর্মান্ধ গোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধে মাঠে নেমে গেছে। যেভাবে নির্বাচনপূর্ব সময়ে কিশোরগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভব্যভাবে নেমেছিল তৌহিদী জনতা। কিন্তু নির্বাচনী ফলাফল ও জনগণের রায় দেশবাসী দেখেছে। কিশোরগঞ্জ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–হাওর পাড়ের মানুষ সহজিয়া।
এবার একটা ভেতরের তথ্য দিই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কিছু শিক্ষার্থীদের সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। তাদের বিরুদ্ধে নেমেছে মূলত কওমির শিক্ষার্থীরা। ফেসবুকে প্রচারণা শুরু। এরাই হাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের অনুরাগী। মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত রাষ্ট্রের আদর্শ ও লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিহীন শিক্ষা কিভাবে সমাজকে বিভক্ত করে, সংস্কৃতিকে হুমকির মুখে ফেলে দেয় সিনেমা প্রদর্শনীর ঘটনা একটি ছোট্ট উদাহরণ।
তবে ইনকিলাব বাহিনীর এবার একটা পরাজয় হয়েছে। সেই পরাজয় তাদের ব্যানারেই লেখা আছে। আগে তারা লেখত তৌহিদী জনতা। এবার সেই নাম পালটে লিখেছে, সচেতন ইসলাম প্রিয় জনতা। অর্থাৎ তৌহিদী জনতা বলে জনগণকে আর টানা যাচ্ছে না। জনগণ প্রত্যাখান করেছে। সেটাও রুমিন ফারহানা তাঁর নির্বাচনে চল্লিশ হাজার ভোটের ব্যবধানে প্রমাণ করেছেন। আর রণাঙ্গনের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান হেলে থাকা প্রশাসনকে তুড়ি মেরে জামায়াতের প্রার্থী রোকন রেজা শেখকে মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান কত দূরে সেটা দেখিয়েছেন ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে। সমাজে নানা ব্যানারে উগ্রবাদ নিপাত যাক। ধর্ম, সংস্কৃতি ও উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি মুক্তি পাক।
