রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি মিছিলে অংশগ্রহনকারীদের উপর মব হামলা, অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২২শে জুন হওয়া এই হামলার শিকার দুজনের লাশ উদ্ধার এবং আরও পাঁচজনের নিখোঁজ থাকার তথ্য উঠে এসেছে।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তুরাগ নদী থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, গত ২২শে জুন আওয়ামী লীগের একটি মিছিলের কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে দুই ব্যক্তি আক্রান্ত হন, যাদের মধ্যে একজন তুরাগ থানা ছাত্রলীগের কর্মী আরিফুল এবং অপরজন ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী বিপ্লব বলে জানা গেছে। দুই দিন পর, ২৫ জুন ভোরে তাদের মরদেহ তুরাগ নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা পুলিশকে জানান।
এছাড়া তুরাগ থানা শ্রমিকলীগের নেতা মামুন, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কর্মী সুমনসহ আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে তাদের পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের
নিহত ও নিখোঁজদের পরিবার এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এই হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা জড়িত। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন:
আবুল মাতবর (সাংগঠনিক সম্পাদক, তুরাগ থানা বিএনপি)
রাশেদ খান সুজন (সভাপতি, ধউর আশুতিয়া ইউনিট বিএনপি)
মামুন পারভেজ তন্ময় (তুরাগ থানা যুবদল)
জাকির হোসেন অর্ণব (তুরাগ থানা ছাত্রদল)
হাজী জহিরুল ইসলাম (যুগ্ম আহ্বায়ক, তুরাগ থানা বিএনপি)
খোকা ভূঁইয়া (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, তুরাগ থানা বিএনপি)
সফিক ইসলাম (সভাপতি, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি)
বাবুল হোসেন (সাংগঠনিক সম্পাদক, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি)
স্থানীয় প্রতক্ষ্যদর্শীরা বলছেন, আবুল হোসেন মাতবর ও খোকা ভূঁইয়ার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ২২শে জুন, একই দিনে মামুন ও সুমনসহ আরও পাঁচজনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এখনও তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। এছাড়া আরও এক ঘটনায় ২৩ই জুন মামুন পারভেজ তন্ময় ও জাকির হোসেন অর্নবের নেতৃত্বে রাব্বি হাজারী নামক এক নিরীহ ছাত্রলীগের কর্মীকে মব করে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। যা স্থানীয় অধিবাসীদের কারনে ভেস্তে যায়, পরে পুলিশে খবর দিয়ে আটককৃতদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তুরাগ থানা পুলিশের ভাষ্যে, নদী থেকে লাশ উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চলছে। এলাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
