এ আর রহমান
একটা কথা আজ বুক ফুলিয়ে বলা যায়—আমাদের দেশের মূলধারার প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মীরা আবার স্বমহিমায় সরব হচ্ছেন। আর এটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক।
ইতিহাস সাক্ষী, এই বাংলায় যেকোনো ক্রান্তিকালে সাধারণ মানুষকে পথ দেখিয়েছে আমাদের সংস্কৃতি। ৫ আগস্টের পরে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে অনেকেই হয়তো লাল বদর বা জুলাই তেলাপোকাদের পক্ষ নিয়েছিলেন। কিন্তু আজ তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন, সত্যটা উপলব্ধি করেছেন এবং আবারও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন। তারা আজ আবারও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় সোচ্চার হয়ে উঠছে ।
তবে একটা সত্য স্বীকার করতেই হবে—মূলধারার প্রকৃত সাংস্কৃতিক কর্মীরা কিন্তু কখনো মৌলবাদ আর ফ্যাসিবাদের পক্ষে ছিলেন না।
হ্যাঁ, সুযোগসন্ধানী কিছু মানুষ ছিলো, যারা আওয়ামী লীগের আমলে কোটি টাকার সুযোগ-সুবিধা লুটেছে, সংসদ সদস্যের চেয়ার বাগিয়েছে এবং বিপদের দিনে আজ কাপুরুষের মতো লাপাত্তা হয়েছে।
কিন্তু যারা কোনো উচ্ছিষ্ট নেননি, যারা আদর্শ বিক্রি করেননি, তারা প্রথম দিন থেকেই লড়াই করছেন। রোকেয়া প্রাচী, অরুণা দি, সায়মন সাদিক, সাইফ খান, সাবা, সুইটি, তারিন, দিনাত জাহান মুন্নী, মারিয়া কিসপট্টা—এরা প্রথম থেকেই জুলাই তেলাপোকাদের রক্তচক্ষুকে তোয়াক্কা না করে সরব ছিলেন, আজ মাঠে আছেন।
আজ তাদের দেখা দেখি আরও অনেকেই একসঙ্গে আওয়াজ তুলছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠছেন। এই ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বরই আজ আমাদের নতুন করে বাঁচার এবং লড়াই করার স্পৃহা জোগাচ্ছে।
মনে রাখবেন, একটি দেশকে পুরোপুরি রাজাকারমুক্ত করতে এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ফিরিয়ে আনতে প্রগতিশীলদের অংশগ্রহণ অনস্বীকার্য। কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক জাগরণই পারে ঘুমন্ত দেশকে জাগিয়ে তুলতে।
যারা ভাবছেন আমাদের দমিয়ে দেওয়া গেছে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমাদের লড়াই থামেনি, লড়াই মাত্র শুরু হলো।
সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানাই। সবার প্রতি রইল বিপ্লবী শুভকামনা। আমাদের অধিকার আদায়ের লড়াই চলুক।
“অভাগা মানুষ যেন জেগে ওঠে আবার এ আশায়,
যে, আবার নূরলদীন একদিন আসিবে বাংলায়,
আবার নূরলদীন একদিন কাল পূর্ণিমায়
দিবে ডাক, “জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়? জয় বাংলা।
