ঢাকা, ২৬ জুলাই ২০২৬: একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার পরও সংসদে প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো স্থান না পাওয়ায় ইসলামিক দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ দলীয় জোট ছেড়ে দিয়েছে খেলাফত মজলিস।
শনিবার (২৫ জুলাই) খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের সব ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবে দলটি। তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজন দেখা দিলে তা বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জোটে অংশ নিয়ে লাভবান জামায়াত–এনসিপি
নির্বাচনী জোটের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) সংসদে আসন পেলেও জোটের অন্যান্য ইসলামিক দলগুলো কোনো মূল্যায়ন পায়নি। সংসদে প্রতিনিধিত্ব, রাজনৈতিক দর-কষাকষি বা সরকারি-বিরোধী কর্মকাণ্ডে তাদের কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়নি। এমন অবস্থায় জোটের ছোট ছোট ইসলামিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
খেলাফত মজলিসের সিদ্ধান্তকে এই বৃহত্তর অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলটি মনে করে, জোটে থেকে কোনো রাজনৈতিক সুবিধা বা কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ১১ দলীয় জোটের মধ্যে ইসলামিক দলগুলোর মূল্যায়ন না পাওয়া এবং সংসদীয় বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অনুপস্থিতি জোটের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা তুলে ধরেছে। খেলাফত মজলিসের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য ছোট ইসলামিক দলগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে।
দলটি অবশ্য জোট সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করেনি, বরং বৃহত্তর ঐক্যের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন কোনো বড় রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রয়োজন দেখা দিলে খেলাফত মজলিস আবারও আলোচনায় আসতে পারে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসলামিক দলগুলোর এই পদক্ষেপকে সংসদ ও রাজনীতির মূলধারায় তাদের অন্তর্ভুক্তির অভাবের স্পষ্ট প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
