মনে করে দেখুন তো সার্বিক পরিস্থিতিটা চেনা চেনা লাগছে কিনা! ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে গোটা দেশ যখন গ্যাসের অভাবে অন্ধকারে ডুবে ছিল, তখন শিল্পপতিদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হতো। সেই একই গ্যাস সংকটের বিভীষিকা নিয়ে ২০২৬ সালের আগস্টে দাঁড়িয়ে আবারও সেই দোসররা। নারায়ণগঞ্জ এখন যেনো শিল্পাঞ্চলের মৃত্যু উপত্যকা। বিএনপির দুর্নীতি আর জামাতের চাঁদাবাজির কাছে জিম্মি দেশের রপ্তানি খাত।
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল বসিয়ে দেয়ার পর থেকে সরবরাহ লাইনে বারবার ছেদ পড়ছে। জ্বালানি খাতে এই অদক্ষতার মহড়া চলছে পুরোদমে। দেড়শো ডাইং কারখানার চাকা বন্ধ। ৩০ টন সক্ষমতার মিলে এখন ১ টনও উৎপাদন ভাগ্যে জুটছে না। এই সুযোগে সিএনজি সিলিন্ডারের পথও বন্ধ করে দিয়ে শিল্পকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে।
থেমে আছে কাটিং, সেলাই আর ফিনিশিং। টাইমমতো শিপমেন্ট দিতে না পারায় বিদেশি ক্রেতারা চুক্তি ভেঙে বিল থেকে কেটে নিচ্ছে ১০ শতাংশ। বাংলাদেশের সুনাম তলানিতে। অর্ডার চলে যাচ্ছে ভিয়েতনাম আর ভারতে। অথচ এই গ্যাস সংকট কাটিয়ে উৎপাদনে ফেরার কোনো ম্যাজিক প্ল্যান সরকারের কাছে নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইতিমধ্যেই এক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়ে গেছে।
উৎপাদন নেই তবু কারখানা খোলা রেখে শ্রমিকের বেতন আর ব্যাংক ঋণের কিস্তি গুনতে হচ্ছে মালিকদের। অস্তিত্ব রক্ষায় কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন অনেকে। গত এক বছরেই নারায়ণগঞ্জে দুই ডজনের বেশি পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার শ্রমিক পথে বসেছেন। বিসিক এলাকায় ২৫৬ কারখানার ১২২টিই বন্ধ। যারা টিকে আছে তারাও ছুটি সমন্বয়ে ডুবন্ত জাহাজ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করছে।
বিএনপি-জামাত জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করে লুটপাটের যে রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে, আর তার বলি হচ্ছে দেশের লাখ লাখ শ্রমিক ও উদ্যোক্তা। ২০০১-০৬ এর বিভীষিকা আবারও ফিরিয়ে এনেছে তারাই, যারা বারবার ক্ষমতায় এলে দেশকে পিছিয়ে দেয়ার শপথ নেয়।(আওয়ামীলীগ পেইজ)
