বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা ও আল-কায়েদার সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক করে আসছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশকে ঘিরে জঙ্গিদের তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে ওঠার আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। এবার জাতিসংঘের একটি নতুন প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ঘিরে একই ধরনের উদ্বেগের বিষয় সামনে এলো।
জাতিসংঘ কী বলছে?
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক পর্যবেক্ষণ দলের ১০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে Al-Qaida in the Indian Subcontinent (AQIS)-এর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত জাতিসংঘের S/2026/651 প্রতিবেদনের ১০১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, AQIS একটি বিচ্ছিন্ন সংগঠন থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে রূপ নিচ্ছে। সংগঠনটি বড় ইউনিটের বদলে ছোট ও ছড়িয়ে থাকা সেল এবং লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করছে।
এর পরেই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, AQIS বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে সেখানে সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে—এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। (OpIndia)
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, AQIS বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে,
তবে প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার কোনো নতুন ঘাঁটি ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন কথা বলা হয়নি।
জয়ের বক্তব্যের সঙ্গে মিল কোথায়?
জয়ের বক্তব্যের মূল সতর্কতা ছিল বাংলাদেশে আল-কায়েদা ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে। অন্যদিকে জাতিসংঘের বক্তব্য আরও নির্দিষ্ট—AQIS বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সেল গঠনের চেষ্টা করতে পারে। অর্থাৎ সূত্র দুটি আলাদা হলেও দুটির মধ্যে বিষয়গত মিল রয়েছে।
বাংলাদেশের পুরোনো প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে আল-কায়েদার সঙ্গে মতাদর্শিক বা সাংগঠনিকভাবে যুক্ত বলে চিহ্নিত সংগঠনের ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে Ansar al-Islam ও Ansarullah Bangla Team-এর নাম বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদবিষয়ক নথিতে এসেছে। সংগঠনগুলো বাংলাদেশে নিষিদ্ধ।
অতীতে এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্লগার, লেখক ও অধিকারকর্মীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। তবে পুরোনো এই নেটওয়ার্কের ইতিহাসকে ২০২৬ সালে AQIS-এর নতুন সেল প্রতিষ্ঠার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আসল উদ্বেগ কোথায়?
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে AQIS-এর কৌশলে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বড় ও দৃশ্যমান ইউনিটের পরিবর্তে ছোট, বিচ্ছিন্ন সেল এবং লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক ব্যবহারের দিকে সংগঠনটি এগোচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ধরনের কাঠামো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য শনাক্ত করা কঠিন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই নজরদারির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হতে পারে—অনলাইন উগ্রবাদী প্রচারণা, সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়ন, সীমান্ত যোগাযোগ এবং পুরোনো নেটওয়ার্কের পুনর্গঠন।
অনুসন্ধানের ফল
সজীব ওয়াজেদ জয়ের সতর্কবার্তাকে বর্তমান জাতিসংঘের প্রতিবেদনের আলোকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ জাতিসংঘও বাংলাদেশকে ব্যবহার করে AQIS-এর সেল গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে “বাংলাদেশে আল-কায়েদার ঘাঁটি তৈরি হয়ে গেছে”—এমন দাবি করার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে নেই।
তাই সবচেয়ে নির্ভুল বক্তব্য হচ্ছে:
বাংলাদেশে আল-কায়েদার নতুন ঘাঁটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে নেই। তবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে AQIS-এর সেল গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা রয়েছে। আর এই সতর্কতার সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পূর্বের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গত মিল পাওয়া যাচ্ছে।
এটি আতঙ্ক ছড়ানোর বিষয় নয়; বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্ক হওয়ার বিষয়।
