আনোয়ার শাহজাহান
সিলেট নগর ও আশপাশের এলাকায় ভবন নির্মাণে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপদ ভবন নির্মাণের দিক থেকে অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে কিছু প্রশ্নও সামনে আসে।
একটি ভবন নির্মাণের জন্য যদি সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস এবং নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—তিনটি পৃথক সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ও উদ্যোক্তাদের ভোগান্তি কমার পরিবর্তে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই ধরনের কাগজপত্র, পরিদর্শন ও অনুমোদনের জন্য একাধিক দপ্তরে ছুটতে হলে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হবে।
আমার মতে, একটি ভবনের অনুমোদনের দায়িত্ব একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে কেন্দ্রীভূত করা উচিত। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রয়োজনীয় যাচাই ও মতামত ওই কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমন্বয় করা যেতে পারে। এতে নাগরিককে আলাদা আলাদা দপ্তরে গিয়ে অনুমোদন নেওয়ার ঝামেলায় পড়তে হবে না।
বিশেষ করে সিউককে যদি নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণের প্রধান কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তাদের অধীনেই সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
আমরা অবশ্যই পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগর চাই। কিন্তু নগর পরিকল্পনার নামে যেন অনুমোদন প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার না হয়। সহজ, স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি।
সরকারের কাছে প্রত্যাশা—একটি ভবনের জন্য তিনটি আলাদা সংস্থার দ্বারে দ্বারে ঘোরার পরিবর্তে ‘এক জানালা, এক আবেদন, সমন্বিত অনুমোদন’ ব্যবস্থা চালু করা হোক।
পরিকল্পিত নগরায়ণ যেমন প্রয়োজন, তেমনি নাগরিকের সময়, অর্থ ও হয়রানি কমানোও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
নিয়ম থাকুক, কিন্তু নিয়মের কারণে যেন মানুষের ভোগান্তি না বাড়ে।
আনোয়ার শাহজাহান
সম্পাদক, আমাদের প্রতিদিন।
