সিলেটি ভাষা ও ঐতিহ্য নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে চরম তোপের মুখে পড়ার পর অবশেষে নতি স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী হুমায়রা নূর। “সিলেটিরা শুদ্ধ বাংলা বলতে পারে না”—এমন মন্তব্যের পর দেশ-বিদেশের সর্বস্তরের সিলেটি ভাষাভাষী মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া প্রতিবাদ ও সর্বস্তরের মানুষের চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দিয়ে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছেন এই রাজনৈতিক নেত্রী।
সম্প্রতি একটি টক শো-তে সংবিধান ও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনাকালে দেওয়া তাঁর একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিষয়টিকে সিলেটি ভাষার স্বতন্ত্র মর্যাদা ও ঐতিহ্যের ওপর অবমাননা হিসেবে দেখেন ভাষাবিদ ও সাধারণ মানুষ। উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে হুমায়রা নূর দাবি করেন, সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রচার না করে কেবল একটি অংশ কাটছাঁট করে প্রকাশ করায় এই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর দেওয়া মন্তব্যটি মূলত কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মাটি ও মানুষের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং তা ছিল একটি বিশেষ সাংবিধানিক আলোচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবিশেষের উদ্দেশ্যে বলা।
নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে এনসিপি নেত্রী জানান, তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে পছন্দ করেন এবং এটি নিয়ে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। এছাড়া সিলেট অঞ্চলের বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠীর অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে তিনি সর্বদা সোচ্চার এবং কোনো বিশেষ অঞ্চল বা গোষ্ঠীর প্রতি তাঁর কোনো বিদ্বেষমূলক মনোভাব নেই।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, বিগত দিনের সেদিনের সেই বক্তব্যকে ঘিরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত ও দুঃখিত। একই সাথে বিষয়টি সবাইকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তবে তোপের মুখে এসে দেওয়া এই দুঃখ প্রকাশ সিলেটি ভাষাভাষী মানুষের অসন্তোষ পুরোপুরি প্রশমিত করতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।
