কেতকী কুশারী ডাইসন পাড়ি দিলেন অনন্তের পথে। কবি, লেখিকা, অনুবাদক ও গবেষক কেতকীর মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ১১ সেপ্টেম্বর তিনি ইংল্যান্ডের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানা গিয়েছে। ৩১ অগস্ট তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তার পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। শুক্রবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বল্কল’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সালে। উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’, ‘নারী, নগরী’, ‘জল ফুঁড়ে আগুন’।
তাঁর অন্যতম সেরা প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’।
বাংলা ও ইংরেজি, দুই ভাষাতেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন কেতকী। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁর লিখনের উপর রবীন্দ্রনাথ ও বুদ্ধদেব বসুর গভীর প্রভাবের কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
প্রয়াত হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কবি, ঔপন্যাসিক, অনুবাদক এবং প্রাবন্ধিক কেতকী কুশারী ডাইসন।
কেতকী কুশারীর জন্ম ১৯৪০ সালে কলকাতায়। প্রেসিডেন্সি কলেজ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা। পরবর্তী সময়ে পড়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই পিএইচডি। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ পুরুষ ও নারীদের জার্নাল এবং স্মৃতিকথা ছিল তাঁর গবেষণার বিষয়। ব্রিটিশ শাসনের প্রাথমিক পর্ব থেকে মহাবিদ্রোহের প্রাক্মুহূর্ত পর্যন্ত ইংরেজ পুরুষ এবং রমণীদের আত্মস্মৃতির বিশ্লেষণ তিনি করেছিলেন তাঁর গবেষণাপত্রে।
বাংলা ও ইংরেজি, দুই ভাষাতেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন কেতকী। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁর লিখনের উপর রবীন্দ্রনাথ ও বুদ্ধদেব বসুর গভীর প্রভাবের কথা তিনি স্বীকার করেছেন। এই দুই কবির বহু রচনাই তিনি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। তাঁর গবেষণাধর্মী উপন্যাস ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিকতোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’ ১৯৮৬ সালে আনন্দ পুরস্কার লাভ করে। ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত তাঁর সাড়া জাগানো উপন্যাস ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’ ইংল্যান্ডে অভিবাসীদের জীবন ও আনন্দ-বেদনার আখ্যান। কবি হিসেবেও কেতকী খ্যাত ছিলেন। বাংলা ও ইংরেজি, দুই ভাষাতেই কাব্য রচনা করেছেন। ‘সবীজ পৃথিবী’, ‘জলের করিডোর ধরে’ এবং ‘কথা বলতে দাও’ তাঁর উল্লেখযোগ্য বাংলা কাব্যগ্রন্থ। ইংরেজিতে লিখেছেন ‘স্যাপ-উড’, ‘হিবিস্কাস ইন দ্য নর্থ’ প্রভৃতি কবিতার বই।
প্রাবন্ধিক হিসেবেও তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’ (সুশোভন অধিকারী ও রবার্ট ডাইসনের সঙ্গে যৌথ ভাবে লিখিত) গ্রন্থে। ‘ভাবনার ভাস্কর্য’ এবং ‘শিকড়বাকড়’ তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ।
১৯৮৬ এবং ১৯৯৭ সালে দু’বার আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন কেতকী। পেয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুবনমোহিনী দাসী পদক।
বিয়ে করেছিলেন পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র রবার্ট ডাইসনকে। তাঁর বহু সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে জড়িত থেকেছেন রবার্ট।
